ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জ্বালানি সংকট

পরিবহন ব্যয় বেড়েছে রাজধানীবাসীর

পরিবহন ব্যয় বেড়েছে রাজধানীবাসীর
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৮ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৮

জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে রাজধানীবাসীর। বাসের ভাড়া না বাড়লেও অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। অজুহাত হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়াকেই তারা দায়ী করছেন। বিশেষ করে রাইড শেয়ারের চালকরা।

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার সরকারি অফিস-আদালত খুলেছে। তবে দুদিন পর স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে তিন দিন টানা ছুটি পড়ে যায়। এ জন্য অনেকে রাজধানীতে ফেরেননি। এ সময় রাজপথে যাত্রী ও গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল কম। কিন্তু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অ্যাপভিত্তিক রাইড চালক, এমনকি প্যাডেল বা ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরাও বাড়তি ভাড়া আদায় করেছেন। অ্যাপের মাধ্যমে চাহিদা দিলে বেশি ভাড়া উঠছে। এ ব্যাপারে ভাড়ায় প্রাইভেট কারের চালক খালেক হোসেন বলেন, যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া বাড়ে বা কমে। ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীতে রাইডের চালক কমে গেছেন। এ জন্য হয়তো ভাড়া একটু বেশি উঠতে পারে।

গতকাল শনিবার গ্রাম থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী ইসমাইল হক বলেন, অন্য সময় গাবতলী থেকে ভাড়ার মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকা হলেই মিরপুর-১৩ পর্যন্ত পৌঁছানো যেত। এখন রাইড শেয়ার করা বাইকচালকরা ৩০০ টাকা চাইছেন। অনেক দরাদরি করে আড়াইশ টাকায় তিনি বাসায় পৌঁছেছেন। 

একই রকম অভিযোগ করেছেন মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা শামিম হোসেন। তিনি বলেন, সদরঘাট থেকে সিএনজি অটোতে ভাড়া নিয়েছে ৬০০ টাকা। কোনো সিএনজি অটোরিকশা চালক এর চেয়ে কম ভাড়ায় আসতে চান না। 

ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারই বিপুল সংখ্যক রিকশচালক ও রাইড শেয়ার চালক গ্রামে চলে যান। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা ফেরেন। বাইকচালক আনিসুল মৃধা বলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে অনেক কষ্টে ৫০০ টাকার পেট্রোল কিনেছেন। ঢাকায় আসতে আসতেই তা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর যে পাম্পেই যান বন্ধ পান। এক পর্যায়ে আগারগাঁও এলাকার তালতলায় একটি পাম্পে তেল নিতে গেলে দেখেন দীর্ঘ লাইন। অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই বাইকের ট্যাঙ্কির পুরো তেল শেষ হয়ে যায়। তখন ধাক্কা দিয়ে দিয়ে এগোতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়। পরে ঠেলে ঠেলে তেজগাঁওয়ে একটি পাম্পে গিয়ে দেখেন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। দুই ঘণ্টা লাইনে থেকে ৫০০ টাকায় চার লিটার অকটেন পান। এ রকম অবস্থা হলে ভাড়া বেশি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

বাইকচালকরা বলেন, কোনো পাম্পে ৩০০ আবার কোনো পাম্পে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেয় না। তা পেতেও কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। আবার সরকার বলছে জ্বালানি সংকট নেই। সংকট যদি নাই থাকে, তাহলে পাম্পই বন্ধ কেন এবং তেল ৫০০ টাকার বেশি দেওয়া হয় না কেন– এ প্রশ্ন তাদের।

ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে বাসের দীর্ঘ লাইন না দেখা গেলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আবার কিছু ফিলিং স্টেশন বন্ধ। রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়ার একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাকির হোসেন পাম্প বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে বলেন, তারা যেটুকু তেল পাচ্ছেন, তা শেষ হয়ে গেলে বন্ধ করে দিচ্ছেন। 

এ পরিস্থিতিতে রিকশাচালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। রিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন সমকালকে বলেন, ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তারা বৈঠক করেছেন। আগামী মঙ্গলবার আবার এ নিয়ে বৈঠক করবেন। তবে তাদের যে ১১ দফা দাবি আছে, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই দাবিগুলো না মেনে সরকার অবাধে রাস্তায় রিকশা নামার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ জন্য রিকশাচালকদের আয় কমে গেছে। তাদের দাবির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ না নিলে রিকশাচালকরা সচিবালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন। 

জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে রেন্ট-এ-কারের চালকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ৫ হাজার টাকা হলেই একটি মাইক্রোবাস রাজধানী থেকে বরিশাল যেত। এখন সাত হাজার টাকা ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। তবে রেন্ট-এ-কারের চালক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ভাড়া তেমন বাড়ানো হয়নি। কারণ গ্যাস এখনও পাওয়া যাচ্ছে। শুধু যে রুটে গেলে অকটেন বা পেট্রোল ব্যবহার করতে হয়, সেখানে একটু ভাড়া বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×