অগ্রিম আয়কর না বসানোর দাবিতে এনবিআরের সামনে মানববন্ধন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১৭:১৮ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১৭:১৯
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। এ সময় তারা এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার ও ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বাইকাররা বলেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল এখন শুধু শখের বাহন নয়, বরং দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রাইড শেয়ার চালকেরা সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল।
মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের পক্ষে এনবিআরে স্মারকলিপি জমা দেন ও মানববন্ধনে কথা বলেন এ কে এম ইমন নামের এক বাইকার। তিনি বলেন, বাইক সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। রাইড শেয়ার কিংবা পণ্য ডেলিভারি দিয়ে বাইকের মাধ্যমে দৈনিক ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা আয় করা যায়। এই টাকা দিয়েই চলে অনেকের সংসার। কিন্তু বাইকে কর আরোপ করা হলে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তারা আবেদন করছের।
এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে মোটরসাইকেলের দাম অনেক কম। ভারতে যে বাইকের দাম এক লাখ টাকা, বাংলাদেশে সেটি কিনতে হয় তিন লাখ টাকায়।
মানববন্ধনে বেশ কয়েকজন নারী বাইকাররাও অংশ নেন। তাদের একজন শিউলি রহমান বলেন, ‘ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা ভালো নয়। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য মাথায় ঝুঁকি নিয়ে বাইক নিতে হয়েছে। কর আরোপ করা হলে বাইকারদের ঘাড়ে অনেক চাপ পড়বে।
বাইকারদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে অনেক নারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। গণপরিবহনের নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি এড়িয়ে কর্মস্থল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল তাদের জন্য কার্যকর বাহনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের চলাচলে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
বাইকারদের দাবি, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
তারা মোটরসাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। পাশাপাশি মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহনমাধ্যম হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। দেশের বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।
- বিষয় :
- এনবিআর
- মানববন্ধন
- মোটরসাইকেল
- বাজেট
