ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কথা রাখতে পারেননি দুই সিটির প্রশাসক

কথা রাখতে পারেননি দুই সিটির প্রশাসক
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৬

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুবর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সময় নিয়েছিলেন ১২ ঘণ্টা। তবে কেউ তাদের কথা পুরোপুরি রাখতে পারেননি। ঈদের চতুর্থ দিন গতকাল রোববারও অনেক পশুর হাটে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ঈদের পরদিন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পরিদর্শনে নামেন। নাজুক চিত্র দেখে দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি ও আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। এতে বর্জ্য অপসারণের কাজে গতি ফেরে।

গতকাল রোববার রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে তেমন বর্জ্য চোখে পড়েনি। তবে পুরান ঢাকা ও জুরাইন এলাকার অলিগলিতে বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি দেখা গেছে। কিছু এলাকায় এখনও পশুর হাড়গোড়, চামড়া, খুলির অংশবিশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অনেক এলাকা থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। আর হাটগুলোতে পশু না থাকলেও বর্জ্য, খাঁচা, বাঁশ পড়ে আছে। ইজারাদাররা সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন মনে করেননি।

গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে ঈদের পশুবর্জ্য অপসারণের কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত কর্মীবাহিনী এখনও মাঠে আছে। কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকার তথ্য দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করা হবে। 

আবদুস সালাম জানান, ঈদের দিন থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ দুই হাজার ১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব ইজারাদার শর্ত ভেঙেছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। হাট ইজারা নিয়ে যারা ভোগান্তি তৈরি করেছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ডিএসসিসির তদারক দল এখনও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে (০১৭০৯৯০০৮৮৮ ও ০২২২৩৩৮৬০১৪) জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। 

অন্যদিকে ডিএনসিসি জানায়, এবার ঈদুল আজহার তিন দিনে ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন দিনে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও এসটিএস থেকে ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে এই বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে। 

পশুর হাটের পরিষ্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, চারটি গরুর হাট এরই মধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, সানারপাড় উত্তরখান, ঢাকা পলিটেকনিক এবং ৩০০ ফিট এলাকার যমুনা মাঠের হাট পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে কাজ চলমান। অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলোও পরিষ্কার করা হবে। বড় একটি কর্মযজ্ঞে কিছুটা সময় লাগতে পারে। যেসব হাট নির্মাণে সাত-আট দিন সময় লেগেছে, সেগুলো অপসারণ ও পরিষ্কার করতেও কিছুটা সময় লাগবে। 

মেট্রোরেল স্টেশনে পশুর হাট
এবার ঈদুল আজহায় সবচেয়ে আলোচিত ছিল রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী মেট্রোস্টেশন ঘিরে পশুর হাট। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের কঠোর নির্দেশনার পর ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক পশু সরিয়ে নিলেও প্রশাসক-প্রতিমন্ত্রীর স্থান ত্যাগের পরপরই ফের মেট্রোস্টেশন এলাকায় চলে আসে পশু। 

ডিএনসিসি প্রশাসক ও হাটের ইজারাদার ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেনের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শেখ ফরিদ হোসেন প্রশাসককে অবজ্ঞা করছেন সেই কথোপকথনে শোনা যায়। এ ছাড়া ফরিদ হোসেন নিজেই গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, পশুর হাটের চৌহদ্দির মধ্যে মেট্রোরেলও রয়েছে। 

এ ব্যাপারে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ও ডিএনসিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। সেখানে মেট্রোরেলের পাশের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য।

সংবাদ সম্মেলনে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে রাস্তা দিয়ে গেছেন সেখানে কিছু বর্জ্য ছিল। তবে সেটি কোরবানির বর্জ্য নয়, গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×