ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাসা দেখার কথা বলে ফ্ল্যাটে ঢুকে ডাকাতি, মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী গৃহবধূ

বাসা দেখার কথা বলে ফ্ল্যাটে ঢুকে ডাকাতি, মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী গৃহবধূ
×

গ্রেপ্তার ৪ জন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪৯ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০৫

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার কথা বলে ফ্ল্যাটে ঢুকে তিন নারীকে বেঁধে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাঁদের বাসায় যান। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীও হন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে তারা পালিয়ে যায়।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে ১ লাখ টাকা লুটের টাকা উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।

পুলিশের ভাষ্য, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ এবং পরে নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×