ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৩ সংকেত দেয়

হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৩ সংকেত দেয়
×

ছবি: সংগৃহীত

শৈলী ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৩২

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ মারা যান। সাধারণ মানুষের ধারণা, বুক বা কাঁধ থেকে বাঁহাতে তীব্র ব্যথাই বোধহয় হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। তীব্র লক্ষণ ছাড়াও অন্যান্য কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে সামনে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বড় অঘটন ঘটার আগেই হৃদযন্ত্র অত্যন্ত গোপনে কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। সেগুলো বুঝতে না পারলে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যা পরবর্তীতে আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।  

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হলো এমন এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে না। এতে রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। কিন্তু সেসব সংকেতকে অনেকে ‘সাধারণ ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যান। গবেষকদের মতে, এই গোপন সংকেতগুলো আগে থেকে চিনতে পারলে অকাল হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেলিয়রের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। 

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে শরীর যেভাবে জানান দেয় 

সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা
অল্প কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, সামান্য হাঁটাহাঁটি বা ঘরের ছোটখাট কাজ করেই হাঁপিয়ে গেলে সাবধান হোন। যদিও অনেকেই একে ‘শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিসপনিয়া‘। আপনার হৃৎপিণ্ড যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারছে না অথবা ফুসফুসের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, এটি তার প্রমাণ।

পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা ভাব
নতুন জুতা শক্ত হওয়ার কারণে বা দীর্ঘ সময় বিমানে বা বাসে বসে জার্নি করার পর পায়ে সামান্য ফোলা ভাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পা, গোড়ালি বা নিচের অংশে ক্রমাগত ফ্লুইড জমতে থাকা বা ফুলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ হতে পারে আপনার হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে রক্ত ও পানি পায়ে গিয়ে জমছে। এটি 'হার্ট ফেলিয়র' বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণ।

পুরুষদের যৌন দুর্বলতা
চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মূল সমস্যা ধরা পড়ার আগে, যৌন দুর্বলতায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ দেখা দেওয়ার প্রায় ৫ বছর আগেই এই লক্ষণটি দেখা দেয়। আমাদের শরীরের ছোট ধমনীগুলোতে (যেমন পেনাইল আর্টারি) রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে যে সমস্যা তৈরি হয়, হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতেও ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটতে থাকে। তাই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝা জরুরি?
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এর ২০২৩ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হলো হার্ট ফেলিয়রের মূল প্রাথমিক উপসর্গ। মানুষ প্রায়শই এগুলোকে বার্ধ্যক্যের লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যান। অথচ সময়মতো এই সংকেতগুলো ধরে সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

সূত্র: এই সময়

আরও পড়ুন

×