প্রতিস্থাপন বিএমইউতে
রক্তের সম্পর্ক নেই, আবেগের টানে কিডনি দান
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৭ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এক রোগীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়েছেন গাইবান্ধার এক ব্যক্তি। তাঁর দেওয়া একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বাগেরহাটের এক রোগীর শরীরে।
গতকাল শনিবার বিএমইউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। একই দিন চিকিৎসা শেষে রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তিনি বলেন, নিকট আত্মীয়র পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কিডনি দিতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, দাতার স্বেচ্ছা সম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের চাপ বা অনৈতিক প্রভাব ছাড়া হয়েছে কিনা– এসব বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
উপাচার্য জানান, সম্ভাব্য দাতার আইনগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাগত উপযোগিতা মূল্যায়ন করে। সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই কিডনি দানের অনুমতি দেওয়া হয়। কিডনি দানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণ করা যাবে না। কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।
বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের ওই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, দাতা নির্বাচন, আইনগত যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর রোগীকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসা শেষে গতকাল তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রোগী ও তাঁর স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপ্লান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে জটিল ও আধুনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। এতে রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসার বিপুল ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিএমইউতে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রমও চলছে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
- বিষয় :
- কিডনি
- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়