ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারিধারায় ফুটপাতে উঠে গেল গাড়ি, চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

এক কিশোর আটক

বারিধারায় ফুটপাতে উঠে গেল গাড়ি, চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
×

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:২৯

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে যাওয়া গাড়ির চাপায় মেহেদী হাসান (২৩) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে গাড়ির কিশোর 'চালক'কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।

এদিকে বনানীতে পৃথক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে কড়াইল এলাকায় সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দুলালী বেগম (৫০)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুরে বাসের ধাক্কায় নিহত হন হাসান ইমাম সোহেল (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী। এ ছাড়া আরও দুটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুজন।

গুলশান থানা পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বারিধারা এলাকায় প্রাইভেটকারের চাপায় মারা যান শ্রমিক মেহেদী হাসান। বারিধারার এক নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাসার সামনের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ফুটপাতে বসেছিলেন। তাঁর বাবার নাম মো. আব্বাস। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় এলাকায়।

এ ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ওই কিশোর বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। পুলিশ অবশ্য বলছে, গাড়িটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তার। আটক কিশোর তাঁর ছেলে। কিশোর গাড়িতে থাকলেও চালাচ্ছিলেন অন্যজন।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দায়ী গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চালককে খুঁজছে পুলিশ। 

দুর্ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেপরোয়া গাড়িটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায়। এতে সেখানে বসে থাকা এক যুবক চাপা পড়েন। পরে গাড়িটি একটি ল্যাম্পপোস্টে গিয়ে ধাক্কা লাগে। গাড়ির চালকের পাশের দরজা থেকে এক কিশোর এবং অপর পাশ থেকে এক ব্যক্তি নেমে যান।

বনানীতে দুই দুর্ঘটনায় দুজন নিহত 

বনানী থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কড়াইল বস্তির টিঅ্যান্ডটি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নিহত দুলালী বেগম ময়লার স্তূপ থেকে ভাঙারি জিনিসপত্র কুড়াচ্ছিলেন। তখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় তিনি আহত হন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি গাড়ির শব্দ বা হর্ন শুনতে পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে মো. শামীম জানান, কড়াইল বস্তিতে থাকতেন তাঁর মা। তাঁর বাবার নাম বাদশা মিয়া। তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুরে। দুলালীর মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।

এর আগে গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে নিহত হন সোহেল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

বনানী থানার এসআই জুয়েল বিশ্বাস জানান, সোহেল তাঁর সহকর্মীর মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাচ্ছিলেন। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী ও সৈনিক ক্লাবের মাঝামাঝি স্থানে তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় লাবিব পরিবহনের একটি বাস। এতে দুজনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এর মধ্যে সোহেল বাসটির সামনে পড়ে চাকায় পিষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় দায়ী বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে পালিয়ে গেছেন চালক ও সহকারী। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সোহেলের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি।

নিহত আরও ২

ভাটারার নতুন বাজারের সাঈদনগর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম সুমন (২০)। তিনি গ্রিল মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের বন্ধু রবিউল জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন বেড়াতে বের হয়েছিলেন। রাত ৯টার দিকে সাঈদনগর এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলকে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে সুমন গুরুতর আহত হন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

এদিকে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় চলন্ত লেগুনা থেকে পড়ে সাগর নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত পৌনে ৯টায় মৃত্যু হয় তার। 

নিহতের প্রতিবেশী মো. ইব্রাহিম বলেন, ঢাকা উদ্যানের ১৬ তলা ভবনের পাশে থাকত সাগর। তার বাবার নাম ফিরোজ। সাগর আগে কখনও হেলপার হিসেবে কাজ করত, কখনও অটোরিকশা চালাতো। দুর্ঘটনার শিকার লেগুনার চালক রিফাত তার বন্ধু। ওই লেগুনার পেছনে ঝুলে বাসার দিকে আসার পথে স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে সে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন

×