আদাবরে বাড়ি দখল মামলা
আসামি ধরতে গিয়ে আক্রমণের মুখে পুলিশের গুলি, আহত ২
গ্রেপ্তার ৪, শনাক্ত কয়েকজন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে এ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে দুই আসামি আহত হয়েছেন। অভিযানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে আসামিরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ মামলায় আগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– রাজিব হাওলাদার, সাগর ওরফে ছোট বিগার, শাকিব ও রাশেদ। তাদের মধ্যে রাজিব মোহাম্মদপুরের বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, আদাবরে ভাঙচুরের ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যে সোমবার রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় কয়েক আসামি অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালায় আদাবর থানা পুলিশ। এ সময় সেখানে গিয়ে পুলিশের দলটি সাত থেকে আটজনকে দেখতে পায়।
অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা চাপাতি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলাম শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে রাজিব ও সাগর পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। আহত রাজিব ও সাগরকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তাররা মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করেন। তারা প্রতিদিনই অন্তত একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেন। সাগর এই দলটির প্রধান। দলের সদস্যরা মূলত কবজি কাটা গ্রুপের সদস্য। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইমো ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করেন।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, এই চক্রের আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এর আগে রোববার আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। সেদিন ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও পিস্তল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
- বিষয় :
- গুলি