ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর তাগিদ

বাংলা একাডেমিতে সেমিনার

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর তাগিদ
×
×

ছবি-সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসার পাশাপাশি মনঃসামাজিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তারা।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ: আ পাথওয়ে টু ইনক্লুসিভ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব আলোচনা করেন। আঁচল ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি), লিডো ও রুডো যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচআরডিসির পরিচালক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. জিয়ানুর কবির। তিনি বলেন, ‘উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা জরুরি।’ তিনি স্বতন্ত্র মানসিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ এবং নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য মনঃসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুপারিশ করেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ-২০১৯ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো চিকিৎসা নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর যুব ও কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা এবং কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ বাড়াতে হবে।’

মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুজন কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সুপারিশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, ‘মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যায় পেশাদার সহায়তা নেওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, ‘সমাজের সম্মুখসারির মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মনঃসামাজিক কাউন্সেলর হিসেবে তৈরি করা গেলে কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ সম্ভব।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব
মো. সাইদুর রহমান। সঞ্চালনা করেন এইচআরডিসির মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুল হক।

আরও পড়ুন

×