ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেহরক্ষীর ওপর সব দায় চাপানোর চেষ্টা ইরফানের

দেহরক্ষীর ওপর সব দায় চাপানোর চেষ্টা ইরফানের
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১৬:১৪

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ডে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদের ওপর সব দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান দাবি করেন, দেহরক্ষী বেপরোয়াভাবে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেছে। তবে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ইরফান দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও এ ঘটনার মূল খলনায়ক তিনি। ইরফানের নির্দেশেই তার দেহরক্ষী নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে মারধর শুরু করেছিল। জাহিদ প্রথম হামলা শুরু করে। এরপর অন্যরা তার সঙ্গে যোগ দেয়।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন হাজী সেলিমের ছেলেকে বহনকারী গাড়ির পেছনে তার আরেকটি গাড়ি ছিল। প্রথম গাড়িতেই ছিলেন ইরফান। তার গাড়িই নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ইরফানের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণেই তার দেহরক্ষীরা যে কারও সঙ্গে বেপরোয়া আচরণ করত। এর আগেও অনেকের সঙ্গে নির্দয় আচরণ করেছেন তারা। নির্যাতন-নিপীড়ন করলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। দখল বাণিজ্য চালাতে ইরফান তার বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করতেন। পুরান ঢাকায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

২৫ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডিতে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের 'সংসদ সদস্য' লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। পরদিন এই ঘটনায় ইরফানসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়। সোমবার পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের বাসায় দিনভর অভিযান চালায় র‌্যাব। ইরফানকে দেড় বছর ও তার দেহরক্ষীকে এক বছর কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত চার আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ধানমন্ডির থানার মামলায় ইরফান ও জাহিদকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ছাড়া হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তাকে গতকাল আরও দু'দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুরান ঢাকা হাজী সেলিমের বাসভবন থেকে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ইরফান। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য আধুনিক রেডিও ফিকোয়েন্সির মাধ্যমে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। এজন্য আলিশান 'চাঁন সরদার দাদাবাড়ি'তে খুলেছিলেন কন্ট্রোল রুম। ওই কন্ট্রোল রুম থেকে ৩৮টি ওয়াকিটকি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস) জব্দ করা হয়েছিল। প্রাইভেট সার্ভারে যোগাযোগের ব্যাপারে ইরফানের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কাজ ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব ব্যবহার করতেন তিনি।

আরও পড়ুন

×