কাফরুলে নারীকে হত্যার পর লাশে আগুন
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১২:৫০
রাজধানীর কাফরুলে সীমা বেগম (৩৩) নামে এক নারীকে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় বাসা থেকে দগ্ধ লাশটি উদ্ধারের পর মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে সীমা বেগমের সৎছেলে আশিকুর রহমান নাহিদ পালিয়ে গেলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
পুলিশের মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নাহিদসহ ওই পরিবারের চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সীমার পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সীমা বেগমের স্বামী শাজাহান শিকদার কার্টন ব্যবসায়ী। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর বছরখানেক আগে সীমাকে বিয়ে করেন তিনি। মিরপুর ১৩ নম্বরের ইমাননগরে একটি বাড়ির সাততলায় বসবাস করেন তারা। একই বাসায় তার আগের পক্ষের ছেলে আশিকুর রহমান নাহিদ এবং নাহিদের স্ত্রী থাকেন। বাবার দ্বিতীয় বিয়ে নাহিদ মেনে নিতে পারেননি। মাঝেমধ্যে সৎমায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো তার। দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাবা শাজাহানকে নিষেধও করেছিলেন তিনি।
পুলিশের ধারণা, রোববার সকাল ১১টার দিকে ঘরের মধ্যে সীমাকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাটসহ ঘরটির আসবাপত্র পুড়ে গেছে। ছুরিকাঘাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাসায় যায়। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ওই বাসা থেকে সীমার স্বামী শাজাহান ও সৎছেলে নাহিদের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এর পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাহিদকে আটক করা হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, শাজাহান শিকদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে এই সম্পদ ভাগ হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কায় বিয়ের বিরোধিতা করেছিলেন নাহিদ। কখনোই সৎমাকে মেনে নিতে পারেননি তিনি।
কাফরুল থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড। পুড়ে যাওয়া লাশের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের কোনো চিহ্ন বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
