ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট

ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট
×

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে চলছে হকারদের ব্যবসা- সমকাল

অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫:৪৭

রাজধানীর বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড থেকে আশকোনা হজক্যাম্প পর্যন্ত সড়কের দু'পাশে প্রায় পাঁচ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত অবৈধ দখলে। এমনকি রাস্তায়ও দোকানপাট বসছে। ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা হাঁটতে পারছেন না। এমনকি রাস্তা দিয়েও চলাফেরা কঠিন। সরকারদলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কাউন্সিলরের যোগসাজশে অবৈধভাবে এখানে দোকান বসছে। ভোগান্তি বাড়ছে পথচারীদের।

স্থানীয়রা জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে হজক্যাম্পের সামনে দিয়ে দক্ষিণখানের শুরু পর্যন্ত ফুটপাত, রাস্তার কিছু অংশ ও খালি জায়গায় অন্তত দুই হাজার দোকানপাট বসে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। এই চাঁদা তোলার জন্য রয়েছে লাইনম্যান। প্রতিদিন অন্তত ৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। এলাকাবাসী বলেন, গুলিস্তানকে হার মানিয়েছে আশকোনা। ফলের দোকান, শাকসবজি, মাছ-মাংস, মোবাইলের সিমের দোকান, চা-পান-সিগারেটের দোকান, পোশাকের দোকান, খাবার হোটেল- এমন কোনো জিনিস নেই এখানে পাওয়া যায় না। আশকোনা হজক্যাম্পের পাশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্মাণাধীন প্রধান কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতও হকারদের দখলে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিমানবন্দর সড়ক থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কের উত্তর পাশে পুরো ফুটপাত দখল করে আপেল-কমলা-আঙুর-পেয়ারা-বরইসহ নানা ফলের দোকান। ফুটপাতের সামান্য অংশও খালি নেই। রেললাইনের পাশে একটু খালি জায়গা আছে, সেখানেও টং দোকান বসেছে। আর ক্রসিং থেকে দক্ষিণখানের হলিডে এক্সপ্রেস আবাসিক হোটেল পর্যন্ত সড়কের দু'পাশে কেবলই অবৈধ দোকানপাটের সারি। যেন পুরো বাজার নেমে এসেছে ফুটপাত আর রাস্তায়। দোকানদাররা জানান, এভাবে ব্যবসা করার জন্য টাকা দিতে হয় পুলিশ ও এলাকার লোকদের। ব্যবসা বুঝে টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা আছে। টাকা না দিলেই ঝামেলা হয়। তখন পুলিশ উচ্ছেদ করে। আবার টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। এভাবেই তারা বছরের পর বছর ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু যারা দোকান বসিয়েছেন, তারা নিজের পরিচয় দিয়ে কিছু বলতে চান না।

স্থানীয়রা জানান, রেলক্রসিং থেকে উত্তরখান, দক্ষিণখান ও কাওলা রুটে হাজার খানেক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা চলে। এসব যানবাহন রেলক্রসিং থেকে কাউন্সিলর অফিস পর্যন্ত সড়কে সারাক্ষণ পার্ক করা থাকে। হকারদের কারণে এমনিতেই রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে, তার ওপর এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে এ পথে চলাচল করা দুঃসাধ্য। এ নিয়ে পথচারী ও চালকদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে অহরহ।

হজক্যাম্পের সামনে সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারী মার্কেটের সামনে দেখা যায়, এ ধরনের শ খানেক যানবাহন রাস্তার মাঝে এলোমেলো করে পার্ক করা। চালকরা যাত্রী ডাকছেন। এসব যানবাহনকে টাকার বিনিময়ে এক ধরনের টোকেন দেওয়া হয় স্থানীয় কাউন্সিলর অফিস থেকে। টোকেন ছাড়া এরা রাস্তায় নামতে পারে না। এভাবে টোকেন-বাণিজ্যের মাধ্যমে এই যানবাহন থেকে বিপুল চাঁদা আদায় হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কের মনোলোভা রেস্টুরেন্ট থেকে কসাইবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কশপ, ভাতের হোটেল, চা-বিস্কুটের দোকান প্রভৃতি। এসব অবৈধ দোকানপাটের কারণে সেখানে প্রতিনিয়ত যানজট হয়। মাঝেমধ্যে সেগুলো উচ্ছেদ করা হলেও আবারও গড়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এসব অবৈধ দোকানপাটের সুবিধাভোগী।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম বলেন, ওই সব অবৈধ দোকানপাট-হকার উচ্ছেদ করার জন্য দু-তিনবার ডিএনসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছি। এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদও করা হয়েছে। কিন্তু একদিক থেকে তুলে দিলে আরেক দিকে বসে পড়ে। উচ্ছেদ করার ক্ষমতা কাউন্সিলরের নেই। সিটি করপোরেশন যদি সেই ক্ষমতা দিত তাহলে আর ফুটপাত অবৈধভাবে দখলে থাকত না। তিনি আরও বলেন, এসব কারণে সবাই কাউন্সিলরকে অভিযুক্ত করে। বলে কাউন্সিলর খারাপ। চাঁদা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে কাউন্সিলর বলেন, 'খোঁজ নিয়ে দেখেন কারা চাঁদা নেয়। দেখবেন ভয়ে তার নাম বলবে না কেউ।'

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন বলেন, সেখানে ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাটের বিষয়টি ডিএনসিসির নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান মণ্ডলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিএম ফরমান আলী বলেন, কয়েকবার তাদের তুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরও চেষ্টা করেছেন। মেয়রও এসেছেন। কিন্তু যখনই তুলে দেওয়া হয়, তারা অন্য জায়গায় বসে পড়ে। এ জন্য স্থায়ী একটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আর পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্টভাবে বললে তখন ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন

×