ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

'সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা'

'সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা'
×

ছবি: ডিএমপি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:১৩

'সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতিটি দেশই এতে আক্রান্ত। অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক বৈষম্য, বেকার সমস্যা, শিক্ষাব্যবস্থার দুরাবস্থা ইত্যাদির কারণে যুবসমাজ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এই সন্ত্রাসবাদকে এককভাবে কোনো দেশই দমন করতে পারবে না। এর জন্য পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে 'সন্ত্রাসবাদ:আইন ও বাস্তবতা' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আইন সমিতি আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আলোচক ছিলেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও ঢাবি আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আইন সমিতির সাবেক সভাপতি ড. শাহজাহান সাজু। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজাল-উল-মুনীর সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান আল-মামুন সঞ্চালনা করেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ উত্থানের কারণ এবং এটি দমনে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো দেশই এককভাবে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে পারবে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে 'সফট অ্যাপ্রোচের' উপর। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী 'হার্ড অ্যাপ্রোচে' যাবে। কিন্তু আমরা যা করতে পারি তা হলো 'সফট অ্যাপ্রোচের' জায়গায় কাজ করা। এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত জীবনের আমাদের সন্তানরা কী করছে সে বিষয়ে অভিভাবকদের অবশ্যই খোঁজ রাখতে হবে।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, সন্ত্রাসের বিরল্ফম্নদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেন সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সেদিকে অভিভাকদের খেয়াল রাখতে হবে।

নাইমা হায়দার বলেন, কোনো দেশই একা সন্ত্রাসবাদ দমন করতে পারে না। এজন্য সন্ত্রাসবাদ দমনে দেশের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যাখান করতে হবে। এছাড়া বিশ্বের সব দেশকে এক হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, যুবসমাজ হতাশাকে হতাশাকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো যুবকদের তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে। এই সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম বন্ধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রত্যেক দেশই সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। এক্ষেত্রে শিক্ষা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন

×