ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নির্মূল কমিটির সভায় বিশিষ্টজন

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের সর্ম্পক অমলিন

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের সর্ম্পক অমলিন
×

জাতীয় জাদুঘরে শুক্রবার 'মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়- ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৬:২৪

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি মানুষকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়েছিল। তারা শুধু আশ্রয়ই দেয়নি অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি তাদের (ভারতীয়) সেনা সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তরাণ্বিত করেছিল। তাই বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের সর্ম্পক অমলিন।

শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় জাদুঘরে 'মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক' শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, মানবাধিকার নেত্রী আরামা দত্ত এমপি ও শহীদসন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন বলেন, 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। এই যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভারতের প্রায় ১৭শ' সৈন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মত্যাগ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দু'দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে দু'দেশের সোনালি সম্পর্কের মধ্যেও কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক তৈরি না হয়, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।'

ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, '৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমি ছোট মেয়ে হিসেবে আমার দাদার সঙ্গে রেডিওতে সেদিন এ ঘোষণা শুনেছি। ভারত তার নিজের সম্পদের ওপর চাপ নিয়েও এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। ভারতীয় সৈন্যরা অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একাত্তর সালে যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক থাকবে। আমাদের প্রধানমনন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন- প্রতিবেশী প্রথম। আর প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম।'

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবদান আমরা ভুলিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, পঁচাত্তরের পর যে সরকারগুলো বেশি ক্ষমতায় ছিল তারা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যখনই ভারতের সঙ্গে আমরা মৈত্রী করতে চেয়েছি তখনই তারা বাধা দিয়েছে।' তিনি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউকে ইন্দিরা গান্ধী রোড করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে, ভারত ৬ ডিসেম্বর এবং ভুটান ৭ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল। শাহরিয়ার কবির মঞ্চে উপবিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এটি সংশোধনেরও আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রী বা অতিথিদের কেউ কোনো বক্তব্য দেননি।

ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনা ফেনী নদীর কিছু পানি দিতে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন বলে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে ওই অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের জন্য যে মানবতা দেখিয়েছেন সেখানে এ পানিটুকু  দেওয়ার সমালোচনা করা অহেতুক।

সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রকৃত ও পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, 'আমরা ভারতের ঋণ কোনোদিনও শোধ করতে পারব না। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে এ অপপ্রচার বাংলাদেশে এখন আর কোনো মূল্য পায় না।'

আরও পড়ুন

×