ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি, ২১ দফা সুপারিশ

উপকূল রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি, ২১ দফা সুপারিশ
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ১২:০৫

দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট পরিবেশগত চাপের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের কারণে পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। গবেষণা সংস্থা ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং নাগরিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন যৌথভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলে একের পর এক দুর্যোগ আঘাত হানছে এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। তিনি উপকূলীয় জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যে উপকূলীয় অঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনসহ উপকূলের বনাঞ্চল প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কার্বন শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও উপকূল বড় ভূমিকা রাখছে। তবে জাতীয় বাজেটে এ অঞ্চলের জন্য আলাদা ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং বরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকা এখনও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তারা ২১ দফা দাবি তুলে ধরে উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন, ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, প্রত্যন্ত এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ এবং নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলাসহ অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন

×