ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা

'দেশ ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তায়নের দিকে যাচ্ছে'

'দেশ ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তায়নের দিকে যাচ্ছে'
×

শুক্রবার তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৭

'বড় ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশটা ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তায়নের দিকে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'

শুক্রবার তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কয়লা বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় মহাসমাবেশসহ বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। কনভেনশনের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল, তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রমুখ। দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা।

শেখ শহীদুল্লাহ বলেন, জাতীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সুলভ, জনবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় দাবি অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে।

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসের বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে এক হয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এই বিপদ মোকাবেলার জন্য উপকূল হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই উপকূল অঞ্চল রক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করে সরকার করছে উল্টো কাজ। কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত ২২টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়োজন করা হচ্ছে।

সুলতানা কামাল বলেন, দেশের প্রকৃতি ও প্রাণ বিপর্যয়ের মুখে। সরকার এখন নারীবান্ধব ও জনবান্ধবের চেয়ে ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। তারা সবকিছু করছে ব্যবসার জন্য।

আনু মুহাম্মদ বলেন, যদি জনগণের গুরুত্ব থাকত, তাহলে উপকূলে বিদ্যুৎকেন্দ্র করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাধা তৈরি করা হতো না। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে উপকূলের পরিবেশ বিপন্ন হবে। পাশাপাশি উদ্বাস্তু তৈরি হবে।

কনভেনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, খালেকুজ্জামান, টিপু বিশ্বাস, সাইফুল হক, মোশারফ হোসেন নান্নু, জোনায়েদ সাকি, ইকবাল কবির জাহিদ, মোশরেফা মিশু প্রমুখ।

কনভেনশন থেকে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে- এক. রামপালসহ সুন্দরবনবিনাশী সব প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; উপকূলজুড়ে কয়লা বিদ্যুতের বদলে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের বৃহৎ প্রকল্প নিতে হবে। দুই. স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে, জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে; গ্যাস সংযোগের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের লোভের বোঝা মেটাতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো চলবে না। তিন. অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে দায়মুক্তি আইন বাতিল করতে হবে। চার. এশিয়া এনার্জি (জিসিএম)-কে দেশ থেকে বহিষ্কার, ফুলবাড়ীর নেতাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বড়পুকুরিয়ায় কয়লা চুরির বিচার করতে হবে। পাঁচ. আমদানি ও ঋণনির্ভর প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশী পরিকল্পনা বাতিল করে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প খসড়া নিয়ে এগোতে হবে।

আরও পড়ুন

×