ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

টার্নিং পয়েন্টে রাজনীতি

টার্নিং পয়েন্টে রাজনীতি
×

মসিউর রহমান খান

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪:০৬

সারাদেশের দৃষ্টি এখন রাজধানীতে। বহুল আলোচিত ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট আজ। দীর্ঘদিন পর নৌকা ও ধানের শীষের সরাসরি ভোটযুদ্ধের পরিসমাপ্তি কী হয় তা দেখার অধীর অপেক্ষায় নগরবাসী। তবে এই ভোট শুধুই দুই সিটি করপোরেশনের দু'জন মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের জয়-পরাজয়ের নয়, একই সঙ্গে গণতন্ত্রের সবচেয়ে ধারালো হাতিয়ার 'ভোটাধিকার' প্রয়োগে ভোটারের আস্থা ফিরিয়ে আনার 'পরীক্ষা'। বাস্তবতা ও নানা সমীকরণের তুল্যমূল্য বিচারে ঢাকা সিটির এবারের এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে চলমান রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।

স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা লড়ছেন দলীয় প্রতীকে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন না সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তাদের প্রচারেও মুখ্য ভূমিকায় ছিল দলীয় পরিচয়। ফলে স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কিংবা নাগরিক সেবার বিষয়টি ছাপিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে এবারের ভোটের লড়াই।

সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন- নানা কারণেই এবারের নির্বাচন গুরুত্ব বহন করছে। ঢাকার এই ভোটকে কেন্দ্র করে অনেক দিনের ঝিমিয়ে পড়া রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আগ্রহ এবার প্রকাশ্য। দুই সিটির সব কেন্দ্রেই প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। যদিও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ইভিএম নিয়ে বিশেষ করে বিএনপির মধ্যে নানা সন্দেহ ও অবিশ্বাস বিরাজ করছে। গতকালও বিভিন্ন মহলে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইভিএম। এর আগে একাধিক নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলেও এবার সবচেয়ে বড় পরিসরে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ইভিএমের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে এই ভোটের ওপর।

ঢাকার দুই সিটিতে এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫৪ লাখ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। গতকাল শুক্রবার কঠোর নিরাপত্তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রগুলোতে মক ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া এবং বাড়ি ফেরার বিষয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে অতীতে নানা অনিয়মের অভিযোগ থেকে রেহাই পেতেই ইভিএমে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

দুই সিটির মেয়র পদে ইসির নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দলের ১৩ জন প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা।

নির্বাচন বিশ্নেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়ে সচেতন থাকবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের অনেক কিছু নির্ভর করছে প্রশাসনের ওপর। তারা না চাইলে শুধু ইসির ইচ্ছায় সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব। তারপরও তারা এবার একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এবার নির্বাচনী প্রচারে প্রশাসনের বাড়াবাড়ি চোখে পড়েনি। বিরোধী পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ থাকলেও প্রচার কাজ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা গতকাল শুক্রবার ইসি কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের আশঙ্কার কিছুই নেই। ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে ফিরতে পারবেন।

আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে, আজকের ভোট অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীনরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে উত্তরের আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যত বেশি ভোটার কেন্দ্রে যাবেন নৌকার ভোট তত বাড়বে। তবে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস কাল কোনো বক্তব্য দেননি। ফেসবুকে তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রচার করে নৌকার পক্ষে থাকার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে উত্তরের তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ইসিকে ভোটারদের জন্য ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণের ইশরাক হোসেন ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল নয়; পাহারা দেবেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন শুক্রবার খিলগাঁও মডেল কলেজে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম দেখতে এসে সাংবাদিকদের বলেছেন, দক্ষিণের এক হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২১টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝূঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

আর উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজ থেকে ভোটের সামগ্রী বিতরণের সময় সাংবাদিকদের বলেন, এই সিটির এক হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ (ঝূঁকিপূর্ণ)। বাকি ৪৪২টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটির ফল ঘোষণার জন্য শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষিণ সিটির ফল ঘোষণার জন্য সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ভোট শেষে কেন্দ্রে ফল গণনা ও ঘোষণার পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে চলে আসবেন। সেখান থেকে ফল সমন্বয় করে প্রাথমিক পর্যায়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে ঢাকা উত্তরে ৩৬টি ও দক্ষিণ সিটিতে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। এরপর অবশ্য ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির ১৮টি করে মোট ৩৬টি সম্প্রসারিত ওয়ার্ডেও ভোট হয় গত বছর। এবার সম্প্রসারিত এলাকাসহ পুরো করপোরেশনে ভোট হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ভোটার ও কেন্দ্র সংখ্যা।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোর অনেক জায়গায় যাতায়াত ব্যবস্থা খুব একটা ভালো না। এ ছাড়া দুই সিটিতে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। সবমিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে আজকের ভোটে। শুধু তাই নয়, ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলবে এবারের নির্বাচনে।

গত ১০ জানুয়ারি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুই সিটির নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে টানা ২০ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। বিচ্ছিন্ন দু'একটি ঘটনা ছাড়া এই প্রচার ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। তবে প্রচারকালে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগসহ একাধিক স্থানে সরকারি দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছেন। ফলে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের দিনকে ঘিরে শঙ্কার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে 'বহিরাগত সন্ত্রাসী' ঢাকায় অবস্থান নিচ্ছে এমন অভিযোগ নিয়ে ইসিতে পাল্টাপাল্টি নালিশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

ইভিএম সহায়তায় থাকবে ৪৯৩৬ জন সেনা : এবারই প্রথম বড় পরিসরে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৭৮টি। এর মধ্যে উত্তরের জন্য ১৫ হাজার ৭শ'টি এবং দক্ষিণে ১৩ হাজার ১৭৮টি। ইভিএম মেশিনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন ৪ হাজার ৯৩৬ জন সেনাসদস্য। এর মধ্যে উত্তরে থাকবেন ২ হাজার ৬৩৬ জন এবং দক্ষিণে ২ হাজার ৩০০ সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে দু'জন করে সার্জেন্ট বা কর্পোরাল বা ল্যান্স কর্পোরাল অথবা সৈনিক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৫২ জন জেসিও ও ২৭ জন অফিসারও মাঠে থাকবেন।

গতকাল শুক্রবার ইসির পক্ষ থেকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইভিএমের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ইভিএমের কারিগরি দিক দেখবেন। আইনশৃঙ্খলার কোনো কাজে অংশ নেবেন না। সেনা ছাউনি থেকে তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আবার সেখান থেকে তারা সরাসরি সেনা ছাউনিতে চলে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ভোট পরিচালনা করবেন। তবে বিভিন্ন কারণে কারও ফিঙ্গার প্রিন্ট না মিললে তারা এক শতাংশ পর্যন্ত ভোট দিতে সহায়তা করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে ভোট বা ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে গেলে তাকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে ফল প্রকাশ করা হবে। ফলের প্রিন্টের কপি প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টের কাছে দেওয়া হবে। প্রত্যেক কেন্দ্র থেকেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে কেন্দ্র থেকে সেই ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফল কেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্র থেকে ওই ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফল প্রকাশে দেরি হলে তার জন্য ইভিএমকে দোষী করা যাবে না। তিনি বলেন, একজন ভোটারের ভোট দিতে সাধারণত ৪০ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ এক মিনিট সময় ব্যয় হওয়ার কথা।

প্রার্থী যারা : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৯ দলের ১৩ মেয়র প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। উত্তর সিটির ৬ মেয়র প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের মো. আতিকুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির তাবিথ আউয়াল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (হাতপাখা), পিডিপির শাহীন খান (বাঘ), এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক (কাস্তে)। এই সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন লড়ছেন।

দক্ষিণে মেয়র পদে সাত প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস (নৌকা), বিএনপির ইশরাক হোসেন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা), এনপিপির বাহরানে সুলতান বাহার (আম), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা (ডাব) ও গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন (মাছ)। দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ দশ হাজার ২৭৩ জন। দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) ৭৫ ওয়ার্ডে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ ভোটার।

ভোটের আগেই নির্বাচিত ৪ কাউন্সিলর :ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চার কাউন্সিলর প্রার্থী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চারজনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার ইকবাল এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফ হোসেন (বর্তমান কাউন্সিলর) ও সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (১৬, ১৭, ১৮ সাধারণ ওয়ার্ডের সমন্বয়ে) নারগীস মাহতাব (বর্তমান কাউন্সিলর) এবং সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের (২২, ২৩, ২৬) নিলুফার রহমান।

বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল :সিটি ভোটের দিন ঢাকা মহানগরে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কিছু যানবাহন চলতে পারবে অনুমতি সাপেক্ষে। প্রচার শেষের পাশাপাশি শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাস, বেবিট্যাক্সি/সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, ট্রাক, টেম্পো, অন্যান্য যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে ইসি। মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত। তবে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। ভোটের জন্য ২৪ ঘণ্টা ইঞ্জিনচালিত নৌযান বন্ধ থাকবে।

সিটি ভোট পর্যবেক্ষণে ১০ দূতাবাস :ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছেন বিভিন্ন দেশের ৭৪ বিদেশি পর্যবেক্ষক। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধি ঢাকা সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ জন, ব্রিটিশ ১২ জন, সুইজারল্যান্ডের ৬ জন, জাপানের ৫ জন, নেদারল্যান্ডসের ৬ জন, ডেনমার্কের ৩ জন, নরওয়ের ৪ জন, অস্ট্রেলিয়ার ২ জন, কানাডার ৪ জন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৫ জন পর্যবেক্ষক সিটি ভোট পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ৭৪ জনের মধ্যে ৪৬ জন বিদেশি এবং ২৮ জন বাংলাদেশি বিদেশি কোটায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, বিদেশি কোটায় দেশিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না। এদিকে, বিদেশি দূতাবাসগুলোকে বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নীতিমালায় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না- তা ইসির ওই চিঠিতে দূতাবাসগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভোট দেখবেন সহস্রাধিক দেশি পর্যবেক্ষক : ভোট পর্যবেক্ষণে ইসির অনুমতি পেয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ১০১৩ জন পর্যবেক্ষক। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মোহা. ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫০৩ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৪৫৭ জন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ৫৩ জনের পর্যবেক্ষণের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

ভিআইপিরা ভোট দেবেন কোথায় :প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সকাল ৮টায় রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরার ৫নং সেক্টরের আই ই এস মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কে এম নূরুল হুদা।

এ ছাড়াও সকাল ৮টায় উত্তরা ৪নং সেক্টরের নওয়াব হাবিবুল্লাহ স্কুলে ভোট দেবেন ঢাকা উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। একই সময় গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেবেন উত্তর সিটির বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ভোট দেবেন ধানমন্ডির ডক্টর মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে। সকাল ৯টায় গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন সড়কের শহীদ শাজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন বিএনপির ইশরাক হোসেন।

আরও পড়ুন

×