ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শাহরুখ-সালমানের প্রসঙ্গ টেনে দেশের নায়কদের ‘বোকা’ বললেন আজিজ

শাহরুখ-সালমানের প্রসঙ্গ টেনে দেশের নায়কদের ‘বোকা’ বললেন আজিজ
×
×

আফরান নিশো, সিয়াম আহমেদ, শাকিব খান, শরিফুল রাজ এবং আরিফিন শুভ। কোলাজ: সমকাল

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২৮ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৯

দেশের চলচ্চিত্রের ব্যবসা ও তারকাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন প্রযোজক ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। তার মতে, দেশের নায়কদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি অনিরাপত্তা ও হীনম্মন্যতা কাজ করে। ফলে তারা মাল্টিকাস্ট সিনেমায় কাজ করা কিংবা একে অন্যের সিনেমার প্রচারে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন। এই মানসিকতাকে ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার অভাব হিসেবে দেখছেন তিনি।

গতকাল সিনেমার শুটিং সেটে গণমাধ্যমের মুখোমুখী হন আব্দুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন, ‘একটি চলচ্চিত্রশিল্পে একাধিক তারকা থাকা জরুরি। একজন তারকা একাই টিকে থাকবেন, আর অন্যরা হারিয়ে যাবেন—এমন চিন্তা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর। বরং একাধিক তারকা ও তাদের সিনেমা থাকলে দর্শকের সামনে বিকল্প তৈরি হয়, যা চলচ্চিত্রের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সিনেমার নায়কদের আমি বোকাই বলব। কারণ, তারা চান, আমি একা সেরা হয়ে থাকি, আর সবাই হারিয়ে যাক। যেখানে একটি ইন্ডাস্ট্রিতে একজন তারকা থাকলে সেই ইন্ডাস্ট্রি টিকবে না। বাংলাদেশে যদি একটি গার্মেন্টস কারখানা থাকত, তাহলে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ব্যবসাই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু পাঁচ হাজার কারখানা থাকায় ক্রেতারা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পান। একটির সঙ্গে না মিললে অন্যটির সঙ্গে মিলবে। চলচ্চিত্রেও বিষয়টি এমন।’

শাকিব খান ও আফারান নিশো শিউউল পেলে তাদের নিয়ে সিনেমার বানানোর কথাও জানান আব্দুল আজিজ।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের তারকাদের উদাহরণ টেনে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সেখানে বড় তারকারা একে অন্যের সিনেমার প্রচারে অংশ নেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যান এবং একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন। এতে তাদের জনপ্রিয়তা বা অবস্থান কমে যায় না। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করে।’

আব্দুল আজিজ

তিনি বলেন, ‘সালমান খান ও শাহরুখ খান দুজনই শীর্ষ তারকা। তারা একসঙ্গে অনেক সিনেমা করেছেন। দেবের সিনেমা হলে জিৎ প্রচার করে, আবার জিতের সিনেমা হলে দেব প্রচার করে। তারা অনিরাপত্তায় ভোগেন না। দেবের প্রিমিয়ারে জিৎ যায়, জিতের প্রিমিয়ারে দেব যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এটা নেই। আমার মনে হয়, একজন নায়িকার সিনেমা দেখতে আরেক নায়িকা যান না। এসব অনিরাপত্তা ও হীনম্মন্যতা থেকে হয়।’

আব্দুল আজিজের মতে, কোনো নায়ক যদি মনে করেন, অন্য সব নায়ক হারিয়ে গেলে তিনি একাই শীর্ষে থাকবেন, তাহলে সেটি তার ভুল ধারণা। কারণ, চলচ্চিত্রের বাজার বড় করতে একাধিক তারকার উপস্থিতি প্রয়োজন। দর্শকের সামনে যত বেশি বিকল্প থাকবে, সিনেমা দেখার আগ্রহও তত বাড়বে।

দেশের চলচ্চিত্রের ব্যবসা প্রসঙ্গে আব্দুল আজিজ জানান, একসময় শাকিব খানের একটি সিনেমা থেকে প্রেক্ষাগৃহে ভালো আয় হতো। তবে বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই ব্যবসার পরিসরও সংকুচিত হয়েছে।

তার ভাষ্য আগে যেখানে একটি সিনেমা থেকে দুই থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত টিকিট বিক্রির আয় হতো, সেখানে এখন প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই অঙ্কে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাল্টিপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে বলে মনে করেন এই প্রযোজক। তার মতে, ‘চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে মাল্টিপ্লেক্সের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক তারকা ও সিনেমার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এতে দর্শকের সামনে পছন্দের সুযোগ বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রের ব্যবসাও লাভবান হবে।’

আরও পড়ুন

×