প্যানিক ডিসঅর্ডার রোগে ভুগছেন
অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাহবুবের বয়স ২৫ বছর। মাঝে মধ্যে তাঁর বুক ধরফর করা শুরু হয়। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় হাত-পা অবশ হয়ে আসা, বুকে ব্যথা করা। ক্রমশ তাঁর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল। মনে হয় এখনই মরে যাবেন। এই ধরনের রোগীরা একটার পর একটা ইসিজি আর ইকোকার্ডিওগ্রাম করতে করতে তাঁর চিকিৎসা ফাইল অনেক বড় করে ফেলেন। চিকিৎসকও বদলাতে থাকেন, তাঁর রোগ ধরতে পারছেন না বিধায়। এর মধ্যে রোগীর গায়ে কিন্তু বড় অসুখের সিল পড়ে গেছে। আত্মীয়স্বজনরা বলতে থাকেন ওকে কোনো বড় কাজে দিও না। ওর বড় জটিল অসুখ। আসলে এটি একটি টেনশন বা অস্থিরতা গ্রুপের রোগ; যাকে আমরা প্যানিক ডিজঅর্ডার বলে থাকি।
কীভাবে বুঝবেন যে প্যানিক ডিজঅর্ডার
রোগে ভুগছেন
l হঠাৎ করে বুক ধরফর করা, শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা ।
l দম বন্ধ হয়ে আসা, বড় বড় করে হাঁপানি রোগীর মতো শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া।
l হাত-পা অবশ হয়ে আসা। শরীরে কাঁপুনি হওয়া।
l বুকের মধ্যে চাপ লাগা এবং ব্যথা অনুভব করা।
l এমনও দেখা গেছে, কোনো কোনো রোগী বলেন, হঠাৎ পেটের মধ্যে একটা মোচর দেয় তারপর ওপর দিকে উঠে বুক ধরফর শুরু হয় সঙ্গে সঙ্গে হাত-পা অবশ হয়ে যায়। আর কথা বলতে পারেন না।
l বমি বমি ভাব লাগে। পেটের মধ্যে অস্বস্তি বোধ লাগা ও গলা শুকিয়ে আসা।
l পেটের মধ্যে গ্যাস ওঠে, খালি গ্যাস ওঠে এবং বুকে চাপ দেয়।
l দুশ্চিন্তা থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। কোনো কোনো রোগী বুকে ব্যথা ও হাত-পায়ের ঝিমঝিমকে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ মনে করে প্রায়ই ছুটে যান হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসক দেখাতে।
l মৃত্যু ভয় দেখা দেওয়া। মনে হয় যেন এখনই মরে যাবেন রোগ যন্ত্রণায়।
l নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
l বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া / ইসিজি করা।
l দূরে কোথাও গেলে স্বজনদের কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান, যেন মাঝখানে অসুস্থ হলে ধরতে পারেন।
l নামাজ পড়তে গেলে একপাশে দাঁড়ান, যেন অসুস্থ হলে তাড়াতাড়ি বের হতে পারেন।
l রোগীর মধ্যে ভয় কাজ করে এই বুঝি আবার একটি অ্যাটাক হতে পারে।
l লক্ষণগুলো হঠাৎ করে শুরু হয়। ১০ থেকে ২০ মিনিট পরে কমে যায়।
l সেফটি বিহেভিয়ার, যেমন অ্যাটাকের সময় বসে পড়া, কোনো কিছু হাত দিয়ে ধরে সাপোর্ট নেওয়া ইত্যাদি লক্ষণ রোগীর মাঝে দেখা দেয়; যা কিনা হৃদরোগীর মাঝে লক্ষণীয় নয়।
রোগীর ভাবনা
l তাঁর হার্টের অসুখ এজন্য বারবার ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম করে বেড়াচ্ছেন।
l মাথা ঝিমঝিম করছে। মানে স্ট্রোক করে ফেলবেন।
l হাত-পা অবশ হয়ে আসছে; মনে হয় প্যারালাইসিস হয়ে যাবে।
l যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে।
কী কী পরিণতি হতে পারে
l সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে, এ ধরনের রোগী চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সর্বস্বান্ত হন এবং সব শেষে নিজে একজন হার্টের রোগী বলে কাজকর্ম ছেড়ে দেন।
l বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন।
l নেশায় জড়িয়ে যেতে পারেন।
l এগোরেফোবিয়া নামক আরও একটি সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। তখন রোগী বাইরে বের হতে, হাটবাজার, রেস্টুরেন্ট, ক্যান্টিন ইত্যাদি জায়গায় যেতেও ভয় পান।
l গুমের সমস্যা হতে পারে।
l আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসতে পারে।
l সর্বোপরি এই মানুষটি আর সমস্যার কারণে পরিবার, সমাজ ও জাতির বোঝা হয়ে যেতে পারেন।
চিকিৎসা:
l নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো।
l রোগীকে আশ্বাস দেওয়া। নির্দিষ্ট সময়ান্তে মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
সঠিক সময়ে সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা নিলে এসব রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।
[বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল]
- বিষয় :
- রোগ