ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

ব্যাংকগুলোর নগদ জমা ও রেপোর সুদ আরও কমল

ব্যাংকগুলোর নগদ জমা ও রেপোর সুদ আরও কমল
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:২৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

দেশের সব ব্যাংকের নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার আরও এক শতাংশ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সিআরআর রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য নেওয়া ধারের সুদহার বেসিস পয়েন্ট ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ মার্চ সিআরআর দশমিক ৫০ এবং রেপোর সুদহার বেসিস পয়েন্ট ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের আলাদা দু’টি সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে এ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে দু’টি প্যাকেজের আওতায় এসএমএমই, শিল্প ও সেবা খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিতে হবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব উৎস থেকে। এ ক্ষেত্রে সুদ ভর্তুকী দেবে সরকার। ব্যাংকগুলোর যেন কোনো সমস্যা না হয় টাকা বাড়াতে এ সব ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমানতকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে একটি অংশ রাখতে হয় নগদে যাকে সিআরআর বলে। বাকি অংশ রাখতে হয় বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে। দু’য়ে মিলে গত ১ এপ্রিল থেকে প্রচলিত ধারার সুদ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে ১৮ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ১০ শতাংশ হারে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। আরও এক শতাংশ কমায় এখন থেকে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে ১৭ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ৯ শতাংশ হাওে সংরক্ষণ করতে হবে। গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, বাজারে তারল্য বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোকে দ্বি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের ন্যূনতম ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম সাড়ে ৪ শতাংশ নগদ জমা রাখতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে দ্বি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৪ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম সাড়ে ৩ শতাংশ রাখতে হবে।

অপর এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেসিস পয়েন্ট ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। এ নির্দেশনা আগামী ১২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এর আগে গত ২৩ মার্চ রেপোর সুদহার বেসিস পয়েন্ট ২৫ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়।

আরও পড়ুন

×