ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলার

বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি  আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলার
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি খাত ছিল অনেকটা গতিহীন। অর্থবছরটির দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত টানা ৮ মাস রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম ছিল। মাঝখানে এপ্রিল মাসে রপ্তানি বাড়ে ৩৩ শতাংশ। সেটি আসলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল না। আগের বছরের একই মাসের দুর্বল ভিত্তির কারণে মাসটিতে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। মে মাসে আবার পতনের ধারায় ফেরা তা প্রমাণ করে। অবশ্য অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। তবে ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাসই কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানিতে পতনের ধারা নিয়েই শেষ হলো বিদায়ী অর্থবছর। কাঁটায় কাঁটায় ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হজার ৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়ে ২০ কোটি ডলার এবং শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ইপিবির তথ্যউপাত্ত ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয় ৪ হাজার ৬৪৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ডলার রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল। অবশ্য ওই বছর পর্যন্ত রপ্তানি আয়ে গোজামিলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইপিবির সংশোধিত হিসাবমতে, গত ১০ অর্থবছরে রপ্তানি বেশি দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। 

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি বেড়েছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। সে অবস্থা থেকে হঠাৎ পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ার পেছনে কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কহার নিয়ে অনিশ্চয়তা। এতে অস্বস্তি তৈরি হয় রপ্তানি খাতে। ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে। পরের মাসে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক নেমে আসে। তবে চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরও বেশি হারে আরোপ থাকায় এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারে আগ্রাসী রপ্তানি শুরু করে। এতে ওই সব বাজারে রপ্তানি কমে বাংলাদেশের।
ইপিবির প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে একক পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই আয় এসেছে তিন হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। বাকি সব পণ্য থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছর তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে গেছে। 

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই কারণেই গত অর্থবছর রপ্তানি কমেছে। আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, মার্কিন পাল্টা শুল্ক ও এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য বাজারগুলোতে চীন বেশি মনোযোগ দিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ কারণের মধ্যে জ্বালানি সংকট, বন্দর, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস ও পশ্চাৎসংযোগ শিল্পের দুর্বলতা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ এবং আধুনিক উৎপাদন ও বিপণন কৌশল আয়ত্ত করতে না পারলে এগোনোর সুযোগ খুব কম। 
গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১২৩ কোটি ডলারের। কৃষিপণ্যের রপ্তানি ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি হয়েছে ৯৮ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশের মতো, রপ্তানি হয়েছে ৯৩ কোটি ডলারের। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এ খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ডলার। প্রায় ২২ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এসেছে প্রকৌশল পণ্যে। এ খাতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ডলার। 

আরও পড়ুন

×