ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ভোজিনহার রণহুংকার

ভোজিনহার রণহুংকার
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৪

আটলান্টিকের বুকে আগ্নেয়গিরির আগুনে জন্ম নেওয়া এক দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে। সেই দেশের মানুষকে ভয় দেখানোর সাধ্য কী কারও আছে? প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা সেই দ্বীপের ভোজিনহা-কেভিন পিনদের মাঝে দেখা গেছে অমিত তেজ। দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কেপ ভার্দে এখন আলোচনার কেন্দ্রে। লিওনেল মেসিও কী আটকে যাবেন ভোজিনহার ইস্পাতকঠিন দেয়ালে? 

এরই মধ্যে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হুংকার দিয়েছেন ভোজিনহা, ‘হয়তো আমরা দেশ হিসেবে অনেক ছোট। কিন্তু আমাদের হৃদয়টা অনেক বড় এবং আমরা যোদ্ধা, সত্যিকারের যোদ্ধা।’ তবে মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো বলে অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘পরের রাউন্ডে ওঠা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য এক অর্জন। আর যে কোনো ফুটবলারের জন্য আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলা একটি স্বপ্ন।’ সেই স্বপ্নপূরণের মাঝেও এগিয়ে যেতে চান তারা। আর বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রাখবে মেসিদের।’

বছরের পর বছর পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি পরিচিতি ছিল স্বচ্ছ নীল জলরাশি এবং সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য। কিন্তু ৪ হাজার ৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট দ্বীপদেশটি এবারের বিশ্বকাপের বিস্ময় হয়ে গেছে। অভিষেক আসরেই রূপকথার গল্প লিখছে তারা। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউটে খেলার রেকর্ড গড়েছে কেপ ভার্দে। তাদের এই স্বপ্নযাত্রায় ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার। 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে কেপ ভার্দের সবাই নাকি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে। কদিন আগে এমন হুংকারই দিয়েছিলেন দলটির সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহা। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম না করা এই গোলরক্ষকের কাছে তাঁর সতীর্থরা একেকজন যোদ্ধা। সেই যোদ্ধারা কী এবার আর্জেন্টিনাকেও রুখে দেবেন? ম্যাচ যদি কোনোভাবে টাইব্রেকারে নিতে পারেন তারা, তাহলে কিন্তু যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। কারণ ভোজিনহার মতো এক অতন্দ্র প্রহরী আছেন কেপ ভার্দের গোলপোস্টে। 

আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি প্রথম চমক দেখিয়েছিল স্পেনের বিপক্ষে। আসরের হটফেভারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তারা। ওই ম্যাচে স্পেনের আক্রমণের ঝড়ের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একাই ৭টি সেভ করে বিস্ময় উপহার দিয়েছিলেন। অতি মানবীয় পারফরম্যান্সের পর রাতারাতি তারকা বনে যান ৪০ বছর বয়সী এ গোলরক্ষক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ৫ লাখ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখে গিয়ে ঠেকেছে। 

এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও দারুণ কিছু সেভ করেছিলেন। শেষ গ্রুপ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও জালে বল যেতে দেননি তিনি। কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে শহর থেকে শুরু হয়েছিল ভোজিনহার ফুটবল যাত্রা। এরপর আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসের গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষে বড় কোনো ক্লাবে দেখা যেতে পারে তাঁকে।

আরও পড়ুন

×