রেকর্ড গড়ার রাতে জোতাকে স্মরণ করে কাঁদলেন রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৯ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪১
ফুটবল ইতিহাসে কিছু রাত আসে, যা শুধু মাঠের রেকর্ডবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। মিশে যায় অন্তহীন আবেগ আর স্মৃতির গহীন বেদনায়। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়টি ছিল ঠিক তেমনই এক রাত।
একদিকে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করে নতুন ইতিহাস গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে ম্যাচ শেষে প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোতাকে স্মরণ করতে গিয়ে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। টরন্টোর আকাশ সাক্ষী হয়ে রইল এক কিংবদন্তির অঝোর কান্নার।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এই জীবন-মরণ ম্যাচটি যখন মাঠে গড়ায়, ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ৩ জুলাই। ঠিক এক বছর আগের এই দিনটিতেই স্পেনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই আন্দ্রে সিলভাকে সঙ্গে নিয়ে প্রাণ হারান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোতা। মৃত্যুর মাত্র ১১ দিন আগে দীর্ঘদিনের সঙ্গী রুতে কারদোসোকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পর্তুগালের জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা এই নির্ভরযোগ্য সতীর্থের অকালপ্রয়াণের ক্ষত এখনো দগদগে পর্তুগাল শিবিরে।
ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর যখন পুরো দল উল্লাসে মাতোয়ারা, অধিনায়ক রোনালদো তখন ড্রেসিংরুম থেকে নিয়ে এলেন জোতার সেই চেনা ‘২১ নম্বর’ জার্সি। জার্সিটি গায়ে জড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন সিআরসেভেন। এরপরই আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অধিনায়কের চোখের জল দেখে ততক্ষণে উদযাপনের আবহ বদলে যায়। কোচ রবের্তো মার্তিনেজ ও সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরেন তাঁদের দলনেতাকে।
Ronaldo est en pleurs après avoir porté le maillot de Diogo Jota pic.twitter.com/Rbattz4YTr
— !£ ǥ ƶ ø n! 🐐 (@kb_Egzon) July 3, 2026
ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসকে রোনালদো বলেন, ‘ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম দিনটি আমাদের জন্য কতটা আবেগের। জীবনের এই অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনাটি নিয়েই আমরা কথা বলছিলাম। সত্যিই অবিশ্বাস্য। আজকের জয় শুধু জয়ের জন্য নয়, যেভাবে শেষ মুহূর্তে আমরা জিতেছি, সেটাও এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।’
পরে স্পোর্ট টিভিকে রোনালদো কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জোতা এখনো আমাদের সঙ্গেই আছে, আমাদের দেখছে। আজকের জয়টা শুধু তাকেই উৎসর্গ করেছি। তাকে সম্মান জানানোর জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর হতে পারে না।’
স্মৃতিভারাক্রান্ত এই রাতে রেকর্ডবইয়ে নিজের নাম আরও উঁচুতে তুললেন রোনালদো। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন। গোল করার সময় তার বয়স ছিল ৪১ বছর ১৪৭ দিন।
এই ম্যাচ দিয়েই তিনি বিশ্বকাপের নকআউটে শুরুর একাদশে নামা সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ও হয়েছেন। একই সঙ্গে ৪০ বছর বয়সী লুকা মডরিচের বিপক্ষে খেলতে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে দুই ৪০-ঊর্ধ্ব খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হওয়ার বিরল ঘটনাও তৈরি হয়। এটি ছিল রোনালদোর বিশ্বকাপে ২৬তম ম্যাচ। আর মাত্র একটি ম্যাচ খেললেই তিনি স্পর্শ করবেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের ২৭ ম্যাচের রেকর্ড।
ম্যাচে প্রথমে ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। পরে রোনালদোর পেনাল্টি এবং যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা। ম্যাচের একদম শেষ সেকেন্ডে গাভার্দিওলের গোলটি ভিএআর রিভিউতে বাতিল না হলে হয়তো ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াত।
কিন্তু ভাগ্যদেবতা হয়তো চেয়েছিলেন জোতার মৃত্যুবার্ষিকীর রাতটি হোক পর্তুগালের। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
