ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বলের ‘চিপ’ যেভাবে বিদায় করল মডরিচদের

ফুটবল বলের ‘চিপ’ যেভাবে বিদায় করল মডরিচদের
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৩

ম্যাচের যোগ করা সময় তখন ১৩ মিনিট। জোস্কো গাভার্দিওলের শট জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে টরন্টোর গ্যালারি। মনে হচ্ছিল, অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরেছে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বদলে যায় পুরো দৃশ্য। ভিএআরের নির্দেশে মনিটরে রিপ্লে দেখে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি। মুহূর্তেই উৎসব পরিণত হয় হতাশায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় লুকা মডরিচের ক্রোয়েশিয়া, আর কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

ম্যাচে প্রথমে ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। পরে রোনালদোর পেনাল্টি এবং যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গাভার্দিওলের গোলটি বৈধ হলে লড়াই গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিই বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

কেন বাতিল হলো গোলটি?

শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে সমতা ফেরাতে অলআউট আক্রমণে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের বাড়ানো ক্রস থেকে জোস্কো গাভার্দিওল বল জালে পাঠাতেই সবাই ধরে নিয়েছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভিএআর কক্ষে তখনই শুরু হয় গোলটির খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ।

সাধারণ রিপ্লেতে যা প্রায় চোখেই পড়ছিল না, প্রযুক্তি সেটিই স্পষ্টভাবে শনাক্ত করে। দেখা যায়, পেরিসিচের ক্রসটি গাভার্দিওলের কাছে পৌঁছানোর আগে স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচের শরীরে হালকা স্পর্শ লাগে। আর ফুটবলের অফসাইড আইনে ঠিক সেই মুহূর্তটিকেই ধরা হয় নতুন আক্রমণের সূচনা হিসেবে।

মাতানোভিচ বল স্পর্শ করার সময় মারিও পাসালিচ পর্তুগালের শেষ ডিফেন্ডারের সামনে ছিলেন। পরে সেই পাসালিচই বলটি গাভার্দিওলের দিকে বাড়িয়ে দেন, যেখান থেকে আসে গোল। ফলে পুরো আক্রমণটিই অফসাইড হিসেবে গণ্য হয়। ভিএআরের সুপারিশে রেফারি গোল বাতিল করেন। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে না পেরে মাঠেই তীব্র প্রতিবাদ জানান ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা।

ক্রিকেটের 'স্নিকো', এবার ফুটবলেও

টেলিভিশনের রিপ্লেতে যেখানে মাতানোভিচের সেই সামান্য স্পর্শই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না, সেখানে ভিএআর কর্মকর্তারা এতটা নিশ্চিত হলেন কীভাবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ম্যাচ বলের ভেতরে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বলে বসানো হয়েছে বিশেষ মোশন সেন্সর। এই ক্ষুদ্র সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শতবার বলের গতিবিধি ও স্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করে ভিএআর সিস্টেমে পাঠায়। ফলে কোনো খেলোয়াড়ের শরীরে বলের সামান্যতম স্পর্শও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ক্রিকেটে যেমন স্নিকো বা আল্ট্রা-এজ প্রযুক্তি ব্যাটে বলের ক্ষুদ্র স্পর্শ ধরে ফেলে, ফুটবলেও এই সেন্সর প্রায় একই কাজ করে। এরপর সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে খেলোয়াড়দের অবস্থান বিশ্লেষণ করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে। অর্থাৎ টেলিভিশনের ক্যামেরায় যা ধরা পড়েনি, বলের ভেতরে থাকা ছোট্ট সেন্সর সেটিই ধরে ফেলেছিল।

শেষ পর্যন্ত সেই অদৃশ্য প্রযুক্তিই লিখে দিল ম্যাচের ভাগ্য। কয়েক মিলিসেকেন্ডের একটি স্পর্শ, বলের ভেতরের ক্ষুদ্র একটি সেন্সর আর ভিএআরের নিখুঁত বিশ্লেষণে শেষ হয়ে গেল লুকা মডরিচদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। আর বেঁচে রইল রোনালদোর পর্তুগাল।

আরও পড়ুন

×