অস্ট্রেলিয়া-মিসর: ডালাসে রক্ষণ আর আক্রমণের লড়াই
সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৩
ক্ষিপ্রগতি, চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং এবং গোল করার নিখুঁত দক্ষতা তাঁর। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যে কজন তারকা ফুটবলার আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মিসরের মোহামেদ সালাহ। বলতে গেলে তাঁর কাঁধে ভর করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে আফ্রিকার এ দেশ। দলে সালাহর মতো তারকা আছেন বলে মিসরীয়দের এবার স্বপ্নের পরিধি অনেক বড়। শেষ বত্রিশেই আটকে থাকতে চায় না তারা; বরং এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে জিততে মরিয়া হুসাম হাসানের দল। একই স্বপ্ন অস্ট্রেলিয়ারও। কখনোই নকআউটে জিততে না পারা দলটি অতীতের তিক্ততা ভুলে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন গল্প লিখতে চায়। সেই গল্পটি এবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসেই লিখতে বদ্ধপরিকর টনি পোপোভিকের দলটি।
একই স্বপ্ন দেখা অস্ট্রেলিয়া ও মিসর আজ মুখোমুখি হচ্ছে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে। ডালাসে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচকে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ আর মিসরের আক্রমণভাগের মধ্যকার লড়াই হিসেবে আখ্যা করেছেন ফুটবলবোদ্ধারা। দুর্দান্ত আক্রমণভাগে সজ্জিত ফারাওরা উত্তর আমেরিকার ফুটবলের এই প্রাণকেন্দ্রে এসেছে সকারুদের হারিয়ে তাদের রূপকথার মতো যাত্রা বজায় রাখতে। যে দল জিতবে, সেই দলই কিনা গড়বে ইতিহাস। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে মিসরের তারকা ফরোয়ার্ড সালাহর দিকে দৃষ্টি থাকবে সবার।
গ্রুপ পর্বে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও মিসরকে। শক্তিশালী রক্ষণভাগের ওপর ভর করে সকারুরা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের ধাক্বা সামলে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। শেষ ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কাটে। ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত। তবে আক্রমণভাগে সেই অর্থে ধার নেই দলটির। তার প্রমাণ গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি গোল করে।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত ও ধারাবাহিক পারফর্ম করে রানার্সআপ হিসেবে টেক্সাসের বিমানে ওঠে মিসর ফুটবল দল। হুসাম হাসানের দল বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে এবং ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা যে কোনো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে সমানতালে লড়তে পারে। প্রতি ম্যাচে গড়ে চারটির বেশি শট লক্ষ্যে রাখা ফারাওরা প্রমাণ করেছে, যে কোনো নিরেট রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার মতো বহুমুখী আক্রমণাত্মক ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েন মোহামেদ সালাহ। তবে চোট কাটিয়ে গত বুধবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এ ফরোয়ার্ড। প্রশ্ন হচ্ছে, পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কিনা তিনি। সালাহ যদি পুরো সময় খেলতে না পারেন, তাহলে মিসরের আক্রমণভাগের দায়িত্ব বর্তাবে ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশের কাঁধে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলও চোট সমস্যায় ভুগছে। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকি ও জ্যাকব ইতালিয়ানো ইনজুরির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। সকারুরা তাদের নির্ভরযোগ্য রক্ষণাত্মক কাঠামোর ওপর ভরসা করবে। তারা হ্যারি সাউটার ও তরুণ সেন্টারব্যাক আলেসান্দ্রো চিরকাতির শারীরিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে তিন বা চারজনের একটি শক্তিশালী রক্ষণভাগ তৈরি করবে, যা গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে সুরক্ষিত রাখবে।
তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে উইংয়ের আক্রমণ বনাম দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে। উইং বা মাঠের দুই ধারের খালি জায়গা উভয় দল কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই কৌশলগত দাবার লড়াইয়ের জয়-পরাজয়। মিসরের প্রধান শক্তি হলো বাঁ প্রান্তে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা, যেখানে মারমুশ এবং ফুল-ব্যাকরা দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার-ব্যাকদের পজিশন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে এবং পেনাল্টি বক্সের ভেতরে নিখুঁত পাসের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করবে। তবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের রক্ষণভাগে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। কারণ তারা ভালো করেই জানে যে মারমুশ কিংবা সালাহর মতো খেলোয়াড়কে সামান্যতম জায়গা দিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলা সালাহ একটি গোল করার সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন দুই গোল। আর দুদলের মধ্যকার সর্বশেষ লড়াইয়ে জিতেছে মিসর। ২০১০ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মিসর জিতেছিল ৩-০ গোলে। সেই জয়ই এখন মিসরের প্রেরণা।
- বিষয় :
- অস্ট্রেলিয়া
- মিশর
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
