এলডিসি থেকে উত্তরণ টেকসই করতেই প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং একটি সুষ্ঠু, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত সময় চাই কোনো বিলম্বের জন্য নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করার জন্য।’
গতকাল ঢাকায় ‘বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকালীন সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর আয়োজন করে। ইআরডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে প্রস্তুতিকালের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ২৫টি অগ্রাধিকার খাতে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
ইআরডি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিকট এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক সিডিপি বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) কাছে দাখিল করেছে। এখন ইকোসক বর্ধিত প্রস্তুতিকালের বিষয়টি বিবেচনা করে চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম এবং তা বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য অংশীজনকে বিশদভাবে অবহিত করতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের সময়াবদ্ধ সংস্কার রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) গীতাঞ্জলি সিং, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ।
- বিষয় :
- খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
