তেঁতুলিয়ায় নারীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা
ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানায় রেহেনা বেগম ঊর্মি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে গত বুধবার সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার তেঁতুলিয়া উপজেলার পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ওই নারী। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগও দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়ার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা তার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য ইউএনও আফরোজ শাহীনের কাছে গেলে তিনি গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে চাকরি পাইয়ে দিতে তিনি তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ছেলের কর্মসংস্থানের আশায় ধারদেনা করে ওই নারী গত ডিসেম্বরে প্রথম দফায় ইউএনওকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। চাকরি দেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা। অগ্রিম টাকা নিয়েও তিনি চাকরি দেননি। গত ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহীনকে তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলির আদেশ জারি হয়।
গত সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেসবুক লাইভে রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন; কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন, আমির গরিব মানুষ। আমি টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। আপনি হয় চাকরি দেন, না হয় টাকা ফেরত দেন।’
ইউএনও বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মুখোমুখি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
ইউএনওর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ অভিযোগের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়।
মামলার বিষয়ে জানতে বাদী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সমকাল। একাধিকবার তাঁর মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘আমি ওই নারীকে চিনি না। তাঁর সঙ্গে কোনো দিন দেখাও হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তাঁর ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’
এসপি আবু সাইম বলেন, ‘মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’
- বিষয় :
- মামলা
