ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস আতঙ্কে গ্রামবাসী

ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস আতঙ্কে গ্রামবাসী
×

ব্রহ্মপুত্র রক্ষা বাঁধের চিলমারীর কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ধসে পড়া ব্লকের একাংশ সমকাল

 চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় এ ধস দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে নতুন করে নদীভাঙন ও বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানির তীব্র চাপ এবং নদীর তলদেশে আকস্মিক গভীরতা বেড়েছে। এতে বুধবার সকালে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ডানতীর রক্ষা বাঁধে একটি স্থানে নতুন করে ধস দেখা দেয়। পরে রাতে আরও দুটি স্থানে ধসের ঘটনা ঘটে।
সড়কটারী এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০ মিটার, ১২ মিটার ও ৬ মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে গেছে। এছাড়া অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন থেকে চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার জন্য ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায়ই ২০১৮ সালে প্রথম ধসের ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও বাঁধের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০০ মিটার এলাকায় ধস দেখা দেয়। বারবার ধসের ঘটনায় প্রকল্পের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব।’
স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম ও নুর নাহার বেগম বলেন, ‘প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই  আমরা আতঙ্কে থাকি। এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ রক্ষা করা না গেলে আমার ইউনিয়নের অর্ধেক এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু রাণীগঞ্জ নয়, বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়বে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘বাঁধের ধস ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।’ 
প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘বাঁধের এই অংশটির নকশাগত ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ঘনত্বে ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিং 
করা হয়নি। ফলে প্রায়ই এখানে ধসের ঘটনা ঘটে এবং জরুরি মেরামত করতে হয়। ক্ষতিগ্রস্থ অংশের স্থায়ী সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।’
 

আরও পড়ুন

×