ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে উদ্ধার
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর বাউফলে নাসির উদ্দীন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে টাকাপয়সা ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম নাসির উদ্দীন। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি বাউফল থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ত্রিপল নাইনে কল পেয়ে একদল পুলিশ বাউফল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থানা সেতুর উত্তর পাশ থেকে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। মামলা হলে জড়িতদের আটকের ব্যবস্থা করা হবে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজু বাড়িয়ার মৃত ছালাম মৃধার ছেলে নাসির উদ্দীন একটি পারিবারিক মামলায় হাজিরা দিতে পটুয়াখালীর আদালতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএনএম জাহাঙ্গীরের ছেলে ইমরান হোসেন। তারা হাজিরা শেষে মোটরসাইকেলে বাঁধঘাটায় যান। এটা জানতে পেরে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আযমের অনুসারী আরিফ হোসেন ও রিয়াজ হোসেন দুজনকে অনুসরণ করতে থাকেন। তারা এক পর্যায়ে নাসিরকে বাঁধঘাটা থেকে ধরে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। তারা মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে নাসিরের বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং পকেটে থাকা চার হাজার টাকা নিয়ে যান। এরপর তাঁকে বাউফল পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি পলাশের দোকানের পেছনে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন আরিফ ও রিয়াজ।
ঘটনাটি ইমরানের মাধ্যমে জানতে পেরে লোকজন ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে জেলা পুলিশ তৎপর হয়। পরে বাউফল থানা পুলিশ অভিযানে নামলে নাসিরকে ছেড়ে পালিয়ে যান আরিফ ও রিয়াজ।
ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী নাসির থানায় বসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরিফ ও রিয়াজ আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে লোহার পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা তড়িঘড়ি করে বাঁধন খুলে মুখ না খোলার শর্তে ছেড়ে দেয়। তখন আমি বের হয়ে কিছুদূর হেঁটে গেলে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসে।’
এ বিষয়ে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আযম চৌধুরী দাবি করেন, তাঁর কোনো লোক এ ঘটনায় জড়িত নয়। আর নাসির একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীরের ক্যাডার।
- বিষয় :
- মারধর
