ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আওতা বাড়ছে ওএমএসের

আওতা বাড়ছে ওএমএসের
×

আবু কাওসার

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। এজন্য কম দামে খোলাবাজারে চাল বিক্রি বা ওএমএসের আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা। এজন্য বাজেটে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে। দেশে যাতে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট দেখা না দেয়, সেজন্য পর্যাপ্ত মজুদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে খাদ্যশস্য (চাল-গম) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে মোট ৩২ লাখ ১১ হাজার টন। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ লাখ ৬১ হাজার টন চাল। বাকি সাড়ে ৬ লাখ টন গম। এ ছাড়া গরিব মানুষের জন্য পাঁচ লাখ টনের বেশি চাল-আটা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা এখন আছে তিন লাখ ৮০ হাজার টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মোট সংগ্রহ করা চালের মধ্যে ২৪ লাখ ৫৬ হাজার টন কেনা হবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। বাকি এক লাখ টন চাল আমদানি করা হবে। অন্যদিকে, এক লাখ টন গম আমদানি করা হবে। অবশিষ্ট বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণভাবে ক্রয় করা হবে। সব মিলে আগামী অর্থবছরে মোট খাদ্যপণ্যের ৯৮ শতাংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। জানা যায়, আগামী বাজেটে বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন খাদ্যশস্য ক্রয় করা হবে। এর ফলে দেশে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট হবে না বলে আশা করছে সরকার।
যোগাযোগ করা হলে খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম সমকালকে বলেন, আগামীতে খাদ্য নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ধাক্কা সামলানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে খাদ্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা মোট ২৮ লাখ টনের সামান্য বেশি। এর পেছনে সরকারি ব্যয় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকট এড়াতে আগামী বাজেটে অতিরিক্ত ৩ লাখ টনের বেশি খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করা হবে। এজন্য বাড়তি ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে চাল ও গম মিলে খাদ্য মজুদ আছে মোট ১১ লাখ টনের ওপর। এ পরিমাণ মজুদ দিয়ে তিন মাসের বেশি খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যাবে। কর্মকর্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। মজুদ আরও বাড়বে। ফলে দেশে খাদ্যের অভাব হবে না।
করোনাকালে কর্মহীন গরিব মানুষকে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দামে চাল বিতরণ করছে সরকার। একই সঙ্গে গ্রামের পাশাপাশি শহরের ৫০ লাখ গরিব জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার ভিজিএফ ও ভিজিডির আওতায় সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে খাদ্য ভর্তুকি বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আসন্ন বাজেটে খাদ্য ভর্তুকিতে ৬ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে, যা চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে আছে ৪ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সংশোধিত বাজেট অপেক্ষা নতুন বাজেটে এক হাজার ১৬৬ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা শতাংশে প্রায় ২০ ভাগ বেশি।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওএমএসের আওতায় খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য চাল-আটা মিলে মোট ৫ লাখ ১০ হাজার টন বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে আটা দেওয়া হবে তিন লাখ ৬০ হাজার টন। বাকি দেড় লাখ টন চাল। অন্যদিকে, আটা-গম মিলে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টন। অর্থাৎ, আগামী বাজেটে ওএমএসের জন্য বাড়তি ১ লাখ ৩০ টন বরাদ্দ থাকছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ডক্টর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এ মূহূর্তে সরকারের প্রধান কাজ হবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। করোনার কারণে যাদের আয়-রোজগার বন্ধ, তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, সামনে আরও ভয়াবহ সময় আসতে পারে। ফলে সরকারকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। সংস্থার সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্তিতি কতটা গভীর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।


আরও পড়ুন

×