গ্রামীণ সেতু নির্মাণে আসছে ইসলামী বন্ড
প্রতীকী ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ০১:০২
ইসলামী বন্ড ছেড়ে এবার গ্রামীণ রাস্তায় সেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য ৭ বছর মেয়াদে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘সুকুক’ ছাড়া হবে। আগামী মার্চে এই নিলাম হতে পারে। ভাড়ার হার কত হবে তা পরে ঠিক হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়। নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য প্রথম সুকুকের মাধ্যমে ২০২০ সালে ৮ হাজার কোটি টাকা তুলেছিল সরকার।
শরিয়াহভিত্তিক বন্ড ‘সুকুক’ নামে পরিচিত। সুকুক একটি আরবি শব্দ; যার অর্থ সিলমোহর লাগিয়ে কাউকে মালিকানা দেওয়ার আইনি দলিল। বিনিয়োগকারীদের টাকায় গড়ে ওঠা এ প্রকল্প সরকারের ভাড়া হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রচলিত ধারার বন্ড ইস্যু করে টাকা তুলে সরকার যে কোনো কাজে খাটাতে পারে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট প্রকল্পের বিপরীতে সুকুক ইস্যু করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ৮টি বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ৮২টি সেতু নির্মাণের কাজ চলমান আছে। এসব এলাকায় মোট ১৭ হাজার ৬৯৭ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩৮ হাজার ৮০০ মিটার সংযোগ সড়ক ও ৪,২৩০ মিটার নদীশাসনের কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও অকৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজীকরণ ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত হবে। এটি হবে পঞ্চম বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সব সদস্যের সম্মতিতে এ প্রকল্পের বিপরীতে সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে সিআইবিআরআর-২ সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট সুকুক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন এ প্রকল্পে সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন এর ভাড়াসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। আগামী মার্চের মধ্যে আবারও শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক করে এরপর ভাড়ার হারসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সরকারের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ইসলামী বন্ড সুকুকের আওতায় দুই নিলামে চার হাজার কোটি টাকা করে ৮ হাজার কোটি টাকা তুলেছে সরকার। এর মধ্যে প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় নিলাম হয় ২০২১ সালের ৯ জুন। উভয় নিলামে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল সরকার। ওই সময় চাহিদার প্রায় তিনগুণ আবেদন পড়েছিল। চাহিদার কয়েকগুণ বেশি আবেদন আসায় আনুপাতিক হারে সবার মাঝে ভাগ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- বিষয় :
- বন্ড
