জিইডির প্রতিবেদন
চালের দাম এখনও উদ্বেগের কারণ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ০০:১১
টানা বেশ কয়েক মাস কমার পর গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে। এটিকে বড় কোনো উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে খাদ্যসহ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে চালের দাম এখনও বড় উদ্বেগের কারণ। গত মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ছিল ৪০ শতাংশ, যা জুলাই মাসে বেড়ে হয়েছে ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মান্থলি ইকোনমিক আপডেট প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। গতকাল রোববার আগস্ট মাসের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জিইডি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতিতে মাঝারি চাল ও মোটা চালের অবদান ছিল যথাক্রমে ২৪ শতাংশ ও ১৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মাঝারি ও মোটা চালের দামে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। আর চিকন চালে গত ১২ মাস ধরে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি রয়েছে। জুলাই মাসে তিন ধরনের চালের মূল্যস্ফীতি হয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশে।
চালের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আউশ ও আমন ধানের উৎপাদন যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ ছিল বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া। আউশ ধান চাষের আওতায় থাকা জমির পরিমাণও কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের চাল সংগ্রহ ও বেসরকারি খাত থেকে আমদানির জন্য আবেদন আহ্বানসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। তবে আগামী কয়েক মাসে বিরূপ আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প মেয়াদে খাদ্যশস্য আমদানি ও সংগ্রহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ওএমএসের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ আরও বাড়াতে পারে সরকার।
জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে নানা চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। যুব বেকারত্ব, শহর-গ্রামের বৈষম্য, বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের উচ্চহার এবং জলবায়ু ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা। অনেক সংস্কারের সফলতা নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর।
- বিষয় :
- চালের দাম
