বন্দরে আটকে থাকা অবৈধ গাড়ি সরকারি কাজে ব্যবহার হবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমদানি নীতি অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানি অবৈধ। এ ধরনের অবৈধ গাড়ি বন্দরে আটকে থাকলেও সেগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রির বিধানও নেই। তবে এখন থেকে এসব গাড়ির মধ্যে যেগুলো ব্যবহার উপযোগী, সেগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারের উপযোগিতা নেই– এমন গাড়ি বিযুক্ত করে যন্ত্রাংশ অথবা স্ক্র্যাপ হিসেবে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে গতকালই আওয়ামী লীগ আমলের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সাবেক সংসদ সদস্যদের বিলাসবহুল ৩১টি গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বৈঠক শেষে সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বন্দর, জেটি ও কাস্টমসে অনেক সময় অনেক পুরোনো গাড়ি থাকে। এগুলোর বেশির ভাগই ব্যবহার অনুপযোগী। এগুলো স্ক্র্যাপ ছাড়া উপায় নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এ প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কী পরামাণ এরকম গাড়ি আটকে আছে, সেটি বলতে পারেননি তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো যে কোনো সিসির মোটরকার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, জিপসহ অন্যান্য পুরোনো যানবাহন আমদানি করার সুযোগ নেই। তাই কোনোভাবে এ ধরনের অবৈধ গাড়ি আমদানি হলে সেগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রিও করা যায় না। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে গত ২৫ আগস্ট বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে এনবিআর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আমদানি নিষিদ্ধ যানবাহন শুল্ক পরিশোধ করে খালাস না করা গেলে তা নিলামের মাধ্যমে খালাসেরও সুযোগ নেই। তাই ওই যানবাহনগুলো শুল্ক কর্তৃপক্ষ শুল্ক আইনের অধীনে বাজেয়াপ্ত করে আদেশ জারি করবে।
এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিআরটিএ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বিবেচনায় যেসব আমদানি নিষিদ্ধ গাড়ির ব্যবহার উপযোগিতা রয়েছে, সেগুলো সরকারি দপ্তর বা পরিবহন পুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমদানি নিষিদ্ধ যেসব গাড়ির ব্যবহার উপযোগিতা নেই, সেগুলো বিযুক্ত করে যন্ত্রাংশ অথবা স্ক্র্যাপ হিসেবে শুল্ক কর্তৃপক্ষ নিলামের আয়োজন করবে।
সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি
এদিকে আওয়ামী লীগ আমলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সাবেক সংসদ সদস্যদের বিলাসবহুল ৩১টি গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তারা সবাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা এসব গাড়ি যানবাহন অধিদপ্তরে হস্তান্তরের জন্য গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ জারি করেছে এনবিআর। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এ কথা জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যের বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে কিনা– জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস নির্দেশনা চায়। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এনবিআর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে জানিয়ে দেয়, আমদানি করা গাড়িগুলো খালাসের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না এবং আমদানিকারকরা স্বাভাবিক হারে শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো খালাস করতে পারবেন।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুসারে, শুল্ক-কর পরিশোধ করে আমদানি করা ৩১টি গাড়ি আমদানিকারকদের কেউ খালাস করেননি। তাই ২০২৩ সালের কাস্টমস আইন অনুসারে গাড়িগুলো নিলামে তোলা হয়। ওই নিলামে কোনো নিলামকারী গাড়িগুলোর যৌক্তিক মূল্য বিড না করায় গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি না করে অতি মূল্যবান গাড়িগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের জন্য এই বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বন্দর থানা
- অবৈধ গাড়ি
