ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত নেওয়া সহজ হচ্ছে

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত নেওয়া সহজ হচ্ছে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ রিপ্যাট্রিয়েশন বা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই প্রত্যাবর্তনের আবেদনের বেশির ভাগ প্রক্রিয়া করতে পারে সেজন্য অনুমোদন সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি। গতকাল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নূরুল কবীর সমকালকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। জাতীয় কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সহজ করতে গিয়ে  নতুন করে কোনো জটিলতা যেন তৈরি না হয়।  

বিডা জানিয়েছে, প্রত্যাবর্তন কাঠামো সহজ, গতিশীল ও আধুনিক করতে রিপ্যাট্রিয়েশন অব সেল প্রসিডস ইন প্রাইভেট অ্যান্ড পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিজ-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সুপারিশমালা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই জাতীয় কমিটি অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত এই সুপারিশ তৈরি করেছে।  

গত মঙ্গলবার বিডার নির্বাহী সদস্য ও জাতীয় কমিটির প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ উপস্থাপন করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। 
সুপারিশমালায় জাতীয় কমিটি বলেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া প্রত্যাবর্তনের বেশির ভাগ ‘কেস’ বা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, সেজন্য প্রত্যাবর্তন অনুমোদন সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রে সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) প্রবর্তন করা দরকার।

সুপারিশে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে নথিপত্রের পরিমাণ কমিয়ে সমসাময়িক ও বৈশ্বিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাগুলো হালনাগাদ করা প্রয়োজন। জটিল বা বিতর্কিত ‘কেস’ নিষ্পত্তি ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে হবে।

দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এমন ব্যবসা ও স্টার্টআপের জন্য পৃথক নীতিমালা ও মূল্যায়নের কাঠামো প্রণয়ন (২০২৬-এর ১ম তিন মাসের মধ্যে) করতে হবে। মূল্যায়ন করে এমন কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স ও সনদ প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে ন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেশন অথরিটি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এ ছাড়া অথরাইজড ডিলার ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও জনবল বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে বলেন, আধুনিক এবং বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক পরিবেশ গড়ার যে অঙ্গীকার ছিল তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এই সুপারিশমালায়। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। 

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ। প্রস্তাবিত কাঠামোটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে, যেটি বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়ানোর বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণেও সাহায্য করবে। 
তিনি বলেন, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্যাকেজ স্বল্প সময়ের মধ্যে উপস্থাপন করেছে। 

আরও পড়ুন

×