ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ১৮ শতাংশেরও কম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ১৮ শতাংশেরও কম। অতিমারি করোনাকালেও উন্নয়ন কার্যক্রমে এতটা মন্থর গতি দেখা যায়নি। করোনার অভিঘাতের পর থেকে সব ধরনের ব্যয়ে সাশ্রয়ী নীতি নেওয়া হয়। এ কারণে গত প্রায় চার বছর ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ধীর। সাম্প্রতিক সময়ে বাস্তবায়ন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপির মোট ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আট হাজার ২২৪ কোটি টাকা কম।
গতকাল বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত ছয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থছরের একই সময়ে যা ছিল ৫০ হাজার কোটি টাকারও কিছু বেশি।
আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, গত ছয় মাসের বাস্তবায়নের হার গত ৫ অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। একক মাসের হিসাবে গত ডিসেম্বরে ব্যয়ের হার গত অর্থবছরের ডিসেম্বরের চেয়ে কিছুটা বেশি। মাসটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের ডিসেম্বর মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছর এডিপির আকার গত অর্থবছরের এডিপির তুলনায় ছোট ছিল। এ কারণে কম ব্যয় সত্ত্বেও শতাংশের হিসেবে বাস্তবায়ন বেশি দেখাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ব্যয় হয় ১৩ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যা ছিল ১৫ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।
এডিপি ব্যয়ে এমন বাস্তবতার অবশ্য বেশ কিছু যুক্তিসংগত কারণও রয়েছে। গত সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) সংশোধিত এডিপি অনুমোদন শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু সংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুমোদন। এর আওতায় শতভাগ টেন্ডার ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) করা হয়েছে। এই কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছুটা ধীর। প্রকল্প অনুমোদনের শর্তে ছয় মাসের মাথায় বাস্তবায়নের গুণমান সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ কারণেও বাস্তবায়ন কিছুটা ধীর। আবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে গেছেন। নতুন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হয়েছে। এতে সময় ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া সরকার বর্তমানে বেশ কিছু বড় প্রকল্প পর্যালোচনা করছে। ফলে সেগুলোর বরাদ্দের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি বর্তমান বছরটি নির্বাচনের বছর হওয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তুলনামূলক কম বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। এসব কারণে এ বছর এডিপি বাস্তবায়ন অনেক কম। বাস্তবায়নে এই হতচিত্রের কারণে এডিপি থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। আরএডিপির আকার দুই লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। চলতি অর্থবছর এক হাজার ১৯৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের সংখ্যাও গত ৫ অর্থবছরের মধ্যে এই অর্থবছরে সবচেয়ে কম।
আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। বিভাগটির বাস্তবায়ন হার ২ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের। এই বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে রুগ্ণ দশায় রয়েছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে বাস্তবায়নের হারে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। তাদের বাস্তবায়ন ১০ শতাংশের কম। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১২ শতাংশ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ১৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।
এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি এডিপি বরাদ্দের ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ব্যয় হয়েছে ৩১ শতাংশের কিছু বেশি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যয় ৩১ শতাংশের কিছু কম। এ ছাড়াও শীর্ষ পাঁচে রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাদের বাস্তবায়ন হার যথাক্রমে ২৮ ও ২৩ শতাংশ।
- বিষয় :
- এডিপি
