ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোর প্রতি নির্দেশনা

ব্যয়ের ২৬ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে

ব্যয়ের ২৬ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন দপ্তরগুলোকে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থ বিভাগের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ-সংক্রান্ত অফিস স্মারকের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় এসব বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন দপ্তরগুলোর আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এতে ১৯ জানুয়ারি সই করেন অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার। আদেশে পরিচালন ও উন্নয়ন– উভয় বাজেটের আওতায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণের একটি হালনাগাদ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, পদ সৃষ্টি ও বিলুপ্তকরণ, তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ী পদ সংরক্ষণ, পদের বেতনক্রম, মর্যাদা ও পদবি পরিবর্তন এবং পদ স্থায়ীকরণ-সংক্রান্ত সব প্রস্তাব অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন সংযুক্ত অধিদপ্তর, অফিস ও সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামোয় যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন এবং যানবাহন ক্রয় ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারী-সংক্রান্ত বিষয়, আউটসোর্সিং নীতিমালার আওতায় সেবা ক্রয় এবং দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তাবও অর্থ বিভাগের বিবেচনার
জন্য পাঠাতে হবে। এতে জনবল ব্যবস্থাপনা ও সেবা গ্রহণে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়, অনুমোদিত বাজেটে নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই– এমন ব্যয় এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত বা দায়মুক্ত যে কোনো মঞ্জুরি ও পুনঃউপযোজনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে। বিশেষ করে রাজস্ব ব্যয় থেকে মূলধন ব্যয়ে বা মূলধন ব্যয় থেকে রাজস্ব ব্যয়ে পুনঃউপযোজন এবং বিএসিএস অনুযায়ী বেতন-ভাতা খাত থেকে অন্য অর্থনৈতিক শ্রেণিতে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাইরে যে কোনো আর্থিক অঙ্গীকার এবং প্রাক-স্বাধীনতাকালের আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে কিনা, তা আগে যাচাই করা হবে।
কঠোর শ্রমসাধ্য বা বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১৫ হাজার টাকার বেশি সম্মানী দেওয়া বা একই অর্থবছরে একাধিকবার সম্মানী দিতে হলেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া বেতন-ভাতা, ভ্রমণ ও বদলি ব্যয়, ভবিষ্যৎ তহবিল, পেনশন ও আনুতোষিক-সংক্রান্ত বিধিবিধানের ব্যাখ্যা এবং বেতনভাতা-সংক্রান্ত চাকরির শর্ত পরিবর্তনের বিষয়গুলোও কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

নন-এনবিআর কর, এনটিআর, ফি আরোপসহ সরকারি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে– এমন যে কোনো প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। বাজেট বরাদ্দের বাইরে অনুদান দেওয়া বা বিধিবহির্ভূত আগাম বর্ধিত বেতন প্রদানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। জালিয়াতি বা গাফিলতির কারণে পাঁচ লাখ টাকার বেশি অনাদেয় ক্ষতি অবলোপন এবং সরকারি কর্মচারীকে দেওয়া অনাদেয় ঋণ বা সুদ অবলোপনের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বিদেশ সফরে কেবিনেট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ডলারের সীমা অতিক্রম করলে সেটিও অনুমোদনসাপেক্ষ হবে।

নতুন অফিস স্মারকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের সময় যে হিসাব করেন, সেই মানসিকতা অনুসরণ করেন। অর্থ বিভাগের মতে, এই নির্দেশনা সরকারি অর্থ ব্যয়ে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের আর্থিক ক্ষমতা আদেশের পর প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট শ্রেণিবিন্যাস এবং সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সংশোধন এবং ২০২৫ সালের নতুন বিধিমালা প্রণয়নের পর আর্থিক ক্ষমতা হালনাগাদ করা জরুরি হয়ে পড়ে। সে কারণেই ২০১৫ সালের আদেশ বাতিল করে নতুন এই সমন্বিত অফিস স্মারক জারি করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ মনে করছে, নির্দিষ্ট তালিকার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট হওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে।

আরও পড়ুন

×