ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এফবিসিসিআই-আইবিএফবি সভা

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে নৈতিকতার চর্চা জরুরি

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে নৈতিকতার চর্চা জরুরি
×

‘বিজনেস ক্লাইমেট ইন বাংলাদেশ: ইস্যুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইথিক্যাল প্র্যাকটিস’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজন করে এফবিসিসিআই ও আইবিএফবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:২০

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চাসহ নীতি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিজনেস ক্লাইমেট ইন বাংলাদেশ: ইস্যুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইথিক্যাল প্র্যাকটিস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই- এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সরকারি এজেন্সিগুলোর সেবার মান ও কাজের গতি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠিত করার ওপর জোর দেন তিনি। উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন, কাস্টমসসহ অন্যান্য সেবা পেতে কী কী জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় সে বিষয়ে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন ড. গোলাম মোয়াজ্জেম।

অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি এজেন্সিগুলোর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গল উইন্ডো বাস্তবায়ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। 

সভায় আইবিএফবির পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিপরীতে যায়, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোতে পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা আছে। তবে সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ রয়েছে। সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সবার মধ্যে আচরণগত সংস্কার খুবই জরুরি।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবির সভাপতি লুতফুন নিসা সৌদিয়া খান বলেন, আইবিএফবি বিশ্বাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ ও অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা।

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার জন্য বেসরকারি খাত থেকে যেসব পরামর্শ উঠে এসেছে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে সেগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। ব্যবসায় ন্যায্য মুনাফা করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সমাজিক, নৈতিক, মানবিক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক অবদান রাখতে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ মানার আহ্বান জানান তিনি।  

আরও পড়ুন

×