ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এডিপি ব্যয় ৯ বছরে সর্বনিম্ন

এডিপি ব্যয় ৯ বছরে সর্বনিম্ন
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি স্থবির। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ মাসে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। এই ব্যয় গত ৯ বছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত অর্থছরের সাত মাসে এডিপি ব্যয় ছিল ৫৯ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

এদিকে অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপির ব্যয় মোট বরাদ্দের মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এত কম হারে এডিপি বাস্তবায়নের রেকর্ড অতীতের বহু বছরে নেই। ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান, সরকার গঠন ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু প্রকল্প বাদ দেওয়ার পরও গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন এখনকার চেয়ে বেশি ছিল। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদন গতকাল সোমবার প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়,
একক মাস হিসেবে গত জানুয়ারি মাসের ব্যয় অবশ্য শতাংশের হিসাবে গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। মাসটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩ দশমিক ৬৪
শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ছিল ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। 

চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি মাসে এডিপি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। গত বছরের জানুয়ারি মাসে যা ছিল ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, এডিপি ব্যয় অনেক কমে যাবার অন্যতম প্রধান করাণ হচ্ছে, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন। এর আওতায় এখন শতভাগ টেন্ডার ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) করা হয়েছে। এছাড়া পিপিআর বিধিমালা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দুই মাসের মতো সব ধরনের কেনাকাটা বন্ধ ছিল। প্রকল্প অনুমোদনের শর্তে ৬ মাসের মাথায় বাস্তবায়নের গুণমান সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ কারণেও বাস্তবায়ন কিছুটা ধীর। এ ছাড়া সার্বিকভাবে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় উন্নয়ন ব্যয় কমাতে হয়েছে। 
সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের এক ব্রিফিংয়ে বিদায়ী পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিচালকের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যান। নতুন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হয়েছে। এতে সময় ব্যয় হয়েছে। এছাড়া সরকার বর্তমানে বেশ কিছু বড় প্রকল্প পর্যালোচনা করছে, যার ফলে সেগুলোর বরাদ্দের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি বর্তমান বছরটি নির্বাচনের বছর হওয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তুলনামূলক কম বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। এসব কারণে এ বছর এডিপি বাস্তবায়ন অনেক কম। বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছর এক হাজার ১৯৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের সংখ্যাও গত ৫ অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। 

আরও পড়ুন

×