টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আয় কমেছে ৫০০ কোটি টাকা
জসিম উদ্দিন বাদল
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১১:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সংকট ছিল। বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত অর্থবছরে এই বন্দর থেকে বাংলাদেশ ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত ও কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া এক চিঠিতে এভাবে সংকটের চিত্র তুলে ধরে বন্দরটি দ্রুত সচল করতে কয়েকটি সুপারিশ করেছে।
সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় এই বন্দর দিয়ে চাল, ডাল, ছোলা, মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, মাছ, শুঁটকি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিক পণ্য, চিপস এবং কটন ফেব্রিক্স রপ্তানি হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বৈধ পথে এসব পণ্য আসা বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে মিয়ানমারের পণ্যের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালানও বাড়ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে, বন্দর সচল না থাকায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই ক্ষতি কাটাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে বৈধ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব বলেও মত দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়। পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ রাজস্ব আহরণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আহরণ কমে প্রায় ১৩০ কোটিতে নেমে আসে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
চালু করতে পাঁচ সুপারিশ
এনবিআরকে দেওয়া চিঠিতে চট্টগ্রাম কমিশনারেট বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল করতে দ্রুত সমঝোতা করা দরকার। কাস্টমস আদেশ অনুযায়ী বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। আমদানি করা পণ্যের আড়ালে যেন মাদক না আসে, সেজন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত টহল জোরদার করা। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধ পণ্য পরিবহন কঠোরভাবে দমন করা।
স্থানীয় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা এবং তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া। এ ছাড়া বর্তমান বাজারের চাহিদা বিবেচনায় সীমান্ত বাণিজ্যের অনুমোদিত পণ্যের তালিকায় নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বন্দরের অনেক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো সংস্কার করা জরুরি। অতি দ্রুত বিগত বছরগুলোতে ইস্যু করা ব্যাংক ড্রাফটের বিপরীতে মিয়ানমারে আটকে থাকা পণ্যগুলো নিরাপদে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা দরকার।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, মিয়ানমার থেকে পণ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বন্দরটি চালু করার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। আমদানিকারকরাও সক্রিয় হচ্ছেন।
এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্দরটি বন্ধ রেখেছে। বন্দর খোলার বিষয়ে এনবিআরের আপত্তি নেই। কারণ, বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।
- বিষয় :
- টেকনাফ স্থলবন্দর
