ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

খুলনা চেম্বারের সদস্য তালিকায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি

খুলনা চেম্বারের সদস্য তালিকায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি
×

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হয়েছে মেসার্স নর্থ খুলনা ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে সদস্য পদের জন্য আবেদন করা হয় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর। নর্থ খুলনা ট্রেডিংয়ের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

খুলনা সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে সদস্য চেম্বারের সদস্য হয়েছে মেসার্স আর এম ট্রেডার্স নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনে উল্লেখিত নগরীর বয়রা শ্মশানঘাটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানায় গিয়ে ভাঙা একটি বসতঘর পাওয়া গেছে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হতে গত ৯ মাস ধরে আবেদন করেছে এক হাজার ৭০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বেশ কিছু ঠিকানায় গিয়ে ওই নামের প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সদস্য হয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই সপ্তাহে ১২৫টি আবেদন যাচাই-বাছাই করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এর মধ্যে ৯০টি প্রতিষ্ঠানই অস্তিত্বহীন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের সদস্য পদ বাতিলের চেষ্টা চলছে। আরও ৯৪৫টি আবেদন যাচাই না করেই গত ৩১ মার্চ তপশিল ঘোষণার লক্ষ্যে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।

২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছকে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক নিয়োগ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রশাসক নিয়োগ করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডলকে। তাঁকে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়। 
সূত্র জানায়, প্রশাসক নিয়োগের শুরু থেকেই চেম্বার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। তখন থেকেই শুরু হয় ভোটার তৈরি ও নবায়ন প্রক্রিয়া। বর্তমানে চেম্বার অব কমার্সের এক হাজার ৮৪ জন সাধারণ শ্রেণির এবং ২৭৮ জন সহযোগী শ্রেণির সদস্য নবায়ন রয়েছে। নতুন করে আবেদন জমা রয়েছে এক হাজার ৭০টি। নতুন এই আবেদন যাচাইয়ের জন্য কয়েক দফা আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তারা প্রথম দফা ৬৭টি এবং পরে ৫৮টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা জমা দেন এবং আরও ৪০০টি প্রতিষ্ঠান ভুয়া রয়েছে বলে জানান। 
প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ১২৫টি আবেদন যাচাই করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের বাতিল করা হবে।  

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও জনতা বিস্কুট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালিদ হোসেন বলেন, এখনও ৯৫০ আবেদন যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ ওপরে রয়েছে ভুয়া ভোটার। এগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা হলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
চেম্বারের প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডল সমকালকে বলেন, ‘আমাকে দ্রুত নির্বাচন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের আরও তালিকা দেয় সেগুলো সময় থাকলে যাচাই করে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না। আর ব্যবসায়ীরা চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। মন্ত্রণালয় যদি যাচাই-বাছাই শেষে তপশিল দিতে বলে আমরা সেটাই করব।’

আরও পড়ুন

×