ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

সুদের হার কমানোর দাবি  জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানান তারা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। 
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সুদহার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে তা এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির চাপ কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা গর্ভরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীত সুদহার ১০ শতাংশ রয়েছে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। 

ডিসিসিআই নেতারা বলেন, ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্বল্প মুনাফাভিত্তিক উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য যা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার।

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে এফবিসিসিআই নেতারা রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানোর দাবি জানান। তারা বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত ইডিএফ তহবিল একসময় সাত বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। 
এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ইডিএফ ফান্ড বাড়ানোর বিষয়ে গভর্নর একমত হয়েছেন। আইএমএফের কারণে এটা কমানো হয়েছে। আমরা আড়াই বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি করেছি। পরে তা আট বিলিয়ন করার কথা বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, তিন মাস কেউ ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে শ্রণিকৃত করা হয়। সেটা বাড়িয়ে ছয় মাস করার দাবি জানানো হয়েছে। এক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে অন্য প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে যায়। সেটা বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×