ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অর্থনৈতিক ইউনিট বেশি খুচরা ও পাইকারি খাতে

অর্থনৈতিক ইউনিট বেশি খুচরা ও পাইকারি খাতে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট সবচেয়ে বেশি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে। অর্থনৈতিক ইউনিট বা অর্থনৈতিক কাজে নিয়ােজিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যােগের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় স্থানে আছে পরিবহন ও মজুত খাত। অর্থনৈতিক ইউনিটের ২২ দশমিক ২২ শতাংশ এ খাতের। তৃতীয় অবস্থানে উৎপাদন খাত। দেশের ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট এ খাতে। ৮ দশমিক ১১ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছে আবাসন ও খাদ্যসেবা কার্যক্রম। 

অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্টে এ তথ্য উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরো (বিবিএস)। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, তথ্য নিয়ে বিগত সরকারের সময় মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল। তথ্য সঠিক ছিল না। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তথ্য যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন, সঠিক তথ্যই দিতে হবে। মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সঠিক তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশব্যাপী চতুর্থ এই অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে বিবিএস। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ল্যাসিফিকেশন (বিএসআইসি) এবং বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রোডাক্ট ক্ল্যাসিফিকেশন (বিসিপিসি) অনুযায়ী কোডিং, তথ্য বিশ্লেষণ, যাচাই-বাছাই এবং জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে শিল্প ক্যাটেগরিতে বিন্যস্ত করাসহ বিস্তাতির তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ শেষে ন্যাশনাল রিপোর্ট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

ইউনিট বেড়েছে ৪৯.৬৮ শতাংশ
অর্থনৈতিক শুমারিতে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। পল্লী ও শহর– উভয় এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে। ৭৩ লাখ ৮৬ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিট পল্লী এলাকায়। শহরে ৪৩ লাখ ১৭ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। 

সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে
মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশই স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট ঢাকা বিভাগে। অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর ২৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এ বিভাগে অবস্থিত। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এ বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৭ দশমিক ৫১, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৩৬, খুলনায় ১২ দশমিক ৭৩, রংপুরে ১১ দশমিক ৪১, ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৬৩ ও বরিশালে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিটে অবস্থান। 

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মালিকানায় বেশি
স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মালিকানার ইউনিট সবচেয়ে বেশি। মোট স্থায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এ ধরনের। এ ছাড়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬ দশমিক ৩৯, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ২ দশমিক ২২, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১ দশমিক ৮২ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। 

সেবা খাতেই ৯০ শতাংশ
দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটের ক্ষেত্রে সেবা খাতের প্রাধান্য বেশি। অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৯০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশই সেবা খাতের। ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ শিল্প খাতের। 

মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য
মোট ইউনিটের ৫৩ শতাংশের বেশি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। সংখ্যা বিবেচনায় মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য দেখা গেছে। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাইক্রো শিল্প এবং ৩৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ কুটির শিল্প। এ ছাড়া ক্ষুদ্রশিল্প ৪ দশমিক ২০ শতাংশ, মাঝারি শিল্প শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ এবং বৃহৎ শিল্প শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। 

বড় সমস্যা মূলধনের অভাব
অর্থনৈতিক শুমারিতে প্রায় ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তা বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় প্রধান সমস্যা মূলধনের অভাব। এ ছাড়া অন্য সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে সহজে ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা, দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পণ্য বিপণনের সমস্যা, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট।
এ বিষয়ে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহজে ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধতা রয়েছে। এ প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন

×