দেড় মাস বিরতির পর ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৩ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেড় মাস বিরতির পর বাজার থেকে সাত কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার একটি ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এ ডলার কেনা হয়েছে। সব শেষ গত ২ মার্চ আড়াই কোটি ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে (বিপিএম৬ অনুযায়ী) আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডলারের দরে স্থিতিশীলতা আসে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আসার পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ডলারের দরে সামান্য নড়চড় হয়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ডলারের দর বাড়তে থাকে। দেড় বছর ধরে ১২২ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হতে থাকা ডলারের দর বেড়ে মার্চের মাঝামাঝি ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠে যায়। এরপর বাজার থেকে ডলার কেনা বন্ধ রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল সাত কোটি ডলার কেনার বিপরীতে ৮৫৯ কোটি টাকা বাজারে দিয়েছে। এর আগে গত ২ মার্চ পর্যন্ত ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে দেওয়া হয় ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এতে করে ব্যাংকগুলোর হাতে তারল্য বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গতকাল এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৮৪ থেকে ১২২ টাকা ৮৮ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল প্রতি ডলার ছিল ১২২ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূলত ডলারের দর সামান্য বেড়েছে।
আমদানি বাড়লেও রপ্তানি কমতে থাকায় বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপক বেড়ে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এর মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা ঘটে। অনেকের ধারণা ছিল, রেমিট্যান্স কমে ডলার বাজারে চাপ তৈরি হবে। তবে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। যে কারণে বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা প্রায় ১৬১ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত এসেছে দুই হাজার ৭৮২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল।
২০২১ সালের আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। তবে করোনা পরবর্তী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে ওই সময় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে তলানিতে নেমে আসে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে যায় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে গতকাল গ্রস ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। গত মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মাসের দায় বাবদ প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর তা কমে ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
- বিষয় :
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক
