ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সরকারি প্রকল্পে অর্থায়ন

ইসলামী বন্ডের নিলামে ১২ গুণ আবেদন

ইসলামী বন্ডের নিলামে ১২ গুণ আবেদন
×

ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৩৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামীণ রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের জন্য ইসলামী বন্ড সুকুকের বিপরীতে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা নিয়েছে সরকার। শরিয়াহভিত্তিক এ বন্ড কেনার জন্য পূর্বনির্ধারিত নিলামে মোট ৭২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে। চাহিদার তুলনায় যা ১২ দশমিক ৩০ গুণ। মূলত কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের দুরবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই বন্ড অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি দেশের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় বন্ড। শরিয়াহভিত্তিক বন্ড ‘সুকুক’ নামে পরিচিত। সুকুক একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ সিলমোহর লাগিয়ে কাউকে মালিকানা দেওয়ার আইনি দলিল। নির্দিষ্ট প্রকল্পের বিপরীতে ইসলামী বন্ড ইস্যু করে সরকার টাকা নিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের টাকায় গড়ে ওঠা এ প্রকল্প সরকারের ভাড়া হিসেবে পরিচালিত হয়। ইসলামী বন্ড ও প্রচলিত বন্ডের অন্যতম আরেকটি পার্থক্য হলো প্রচলিত ধারার বন্ড ইস্যু করে টাকা তুলে সরকার যে কোনো কাজে খাটাতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের জন্য নিলাম ডেকেছিল। গতকাল বাংলাদেশ সরকারের ৮ম বিনিয়োগ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবারের মতো সুকুকের এই নিলাম হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সফটওয়্যার শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডেল (এসএসএম) ব্যবহার করে। ৭ বছর মেয়াদি ভাড়াভিত্তিক সুকুকে গ্রাহকরা বার্ষিক ভাড়া বা মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামিক শাখা বা উইন্ডো এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন প্রভিডেন্ট ফান্ড এখানে আবেদন করে। নিলামে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে আবেদন অনেক বেশি হওয়ায় আনুপাতিক হারে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকালের নিলামের প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স প্রভৃতি শ্রেণিতে মোট এক হাজার ১১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকার সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের বিকল্প ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। সুকুকের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্যও শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ উপাদান তৈরি হয়েছে। এই সুকুক বিধিবদ্ধ তারল্য জমা রাখতে পারে। আবার এটা জামানত রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিতে পারে। এ ছাড়া আজ বৃহস্পতিবার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, কনভেনশনাল ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি মার্কেটে বেচাকেনা করতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বড় একটি বাজার রয়েছে। তবে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক মানুষের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় একধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। আস্থা ফেরাতে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। তবে এসব ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বড় অংশ আত্মসাৎ করে নিয়ে গেছেন আগের পরিচালনায় যুক্তরা। যে কারণে মোট ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশ খেলাপি। যার বেশির ভাগই ঋণের নামে আত্মসাৎ করে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে ইসলামী বিনিয়োগে আগ্রহীদের অনেকে এখন সুকুকের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে নিলামের কয়েক গুণ বেশি আবেদন আসছে। এর আগের সাতটি নিলামেও আগ্রহের বেশি আবেদন পেয়েছিল সরকার। তবে এবারই সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে। এ প্রবণতা সরকার ও ক্রেতা উভয়ের জন্য লাভজনক। আবার শরিয়াহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুকুকের বিপরীতে এসএলআর রাখতে পারে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে তারাও উপকৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×