প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভুয়া ঋণের প্রতিকার চান ২৬ রপ্তানিকারক
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখায় টোটাল ফ্যাশনের ৫০ কোটি টাকা সীমার বিপরীতে ৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে ভুয়া ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে ২০২৩ সালে হঠাৎ ঋণ দেখানো হয় ৩৬০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ তথ্য পাওয়ার পর থেকে কীভাবে এই ঋণ সৃষ্টি হয়েছে জানার চেষ্টা করেও পারেননি।
টোটাল ফ্যাশনের মতো নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিমুখী ২৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এভাবে জালিয়াতি করে বিপুল অঙ্কের ঋণ সৃষ্টি করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারণার তথ্য তুলে ধরেন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডোয়াস ল্যান্ড অ্যাপারেলসের মালিক আরিফুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখায় মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শিল্প। এসব প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধের পথে। জালিয়াতির প্রক্রিয়া তুলে ধরে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান হয়তো এক কোটি টাকার রপ্তানি করত। এর বিপরীতে তার ৭৫ লাখ টাকার ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা পাওয়ার কথা। অথচ এলসি খুলেছে হয়তো সাড়ে সাত কোটি টাকা। রপ্তানি আয় দিয়ে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায় পরিশোধের বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার এক্সচেঞ্জ নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ডলার কিনে দায় সমন্বয় দেখানো হয়েছে। পরে যা এসব গ্রাহকের নামে ঋণ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের অ্যাকাউন্টে অনেক বেশি ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসি দেখে জালিয়াতির বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে প্রতিকার পাননি। বিষয়টি নিয়ে নিজেরাও অন্ধকারে ছিলেন। পুরো বিষয়টি তারা বুঝতে পারেন ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর সমকালে ‘ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ৩০৮১ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর। এরপর থেকে তারা বিষয়টি নিয়ে লেগে থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এমনকি কার নামে কত টাকা ঋণ দেখানো হয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও ব্যাংক আজ পর্যন্ত তথ্য দেয়নি।
- বিষয় :
- ব্যাংক
