ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

শেয়ারবাজার

কোম্পানি তদারকিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে স্টক এক্সচেঞ্জ

কোম্পানি তদারকিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে স্টক এক্সচেঞ্জ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১২:৫৯

স্টক এক্সচেঞ্জকে বাজার মনিটরিং এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানি তদারকিতে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, আইনি সীমার মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ দায়িত্ব পালন করবে। এ ক্ষেত্রে কমিশন কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। প্রয়োজনে স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে স্টক এক্সচেঞ্জ যথেষ্ট পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নিতে পারছে না মনে হলে বা এক্সচেঞ্জের আইনি এখতিয়ার না থাকলে কমিশন নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

গতকাল রোববার নবনিযুক্ত কমিশনের সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসব কথা বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময় নবনিযুক্ত তিন কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, নাফিজ-আল-তারিক এবং কমিশনের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ডিএসইর পর্ষদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম সঙ্গে ছিলেন সব পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

এদিকে নতুন কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন দেখা গেছে গতকালের শেয়ার লেনদেনে। টানা দশম দিনে বেড়েছে শেয়ারবাজার সূচক। এমনকি টাকার অঙ্কে শেয়ার লেনদেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম সপ্তাহ বা ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চে উঠেছে। শুধু ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৫২৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এমনকি ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির সিইও ছিলেন নবনিযুক্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান– এমন খবরে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। শেয়ার চাহিদা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে লেনদেন শুরুর মুহূর্তেই শেয়ারটি সর্বোচ্চ দরে ওঠে এবং ক্রেতাশূন্য হয়। একই ঘটনা ঘটেছে এ কোম্পানির কয়েকজন উদ্যোক্তার মালিকানায় থাকা প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ারদরেও।

সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও চার কমিশনার বৃহস্পতিবার সকালে পদত্যাগ করার পর ওইদিন মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান করে কমিশন পুনর্গঠন করে সরকার। 

গতকালের বৈঠক

ডিএসইর পর্ষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালক পদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসে নবনিযুক্ত কমিশন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন কমিশন কর্মপরিকল্পনা জানায়। বাজার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে স্বল্প মেয়াদে অগ্রাধিকার বিষয়ে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিমত জেনেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কমিশন এখন থেকে বাজারে কারসাজিমূলক যে কোনো কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছে। বিশেষত বন্ধ বা রুগ্‌ণ কোম্পানির শেয়ারদরের অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের নেপথ্যের কারণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। একই সঙ্গে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভালো মানের কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করতে আইপিও বিধিমালা সহজ করার লক্ষ্যের কথা জানান। মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালাসহ কমিশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সংশোধন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, আজ কমিশন জরুরি সভা করে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এরপর চেয়ারম্যান মাসুদ খান দুই সপ্তাহ ছুটি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ডিএসইর পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বিষয়ে জানতে চাইলে এর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ডিএসইর সব পরিচালক একবাক্যে স্বীকার করেছেন, নতুন কমিশন অত্যন্ত পেশাদার ও পরিপক্ব। তারা তাদের দায়িত্ব বিষয়ে সচেতন।

সাক্ষাৎকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান ডিএসইর পর্ষদকে বলেন, শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় আনতে বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জনে ডিএসইকে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মনিটরিং কাজ স্টক এক্সচেঞ্জকে নিতে হবে। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব পালনে স্বাবলম্বী হতে হবে। কখনও ব্যর্থ হলে তখন কমিশন তার ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে স্বাধীন ও ক্ষমতাবান করারও কথা বলেছেন তিনি।

শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুনর্গঠনের পর শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা গতকালও অব্যাহত ছিল। টানা দশম দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে। সূচকটি এদিন আরও ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫১৬ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে, যা গত ২ মার্চের পর সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা সূচক বাড়ল ৩১৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশ।

অবশ্য টানা বৃদ্ধির কারণে গতকাল মুনাফা তুলে নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর দিক থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। ফলে লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও লেনদেন সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। তবে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী বিনিয়োগকারীও অনেক হওয়ায় দরপতন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৬৪ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৫৩টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৩টির দর। এদিন ২৬ কোম্পানির শেয়ারদর ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া টাকার অঙ্কে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বেড়ে দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন

×