ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বাজেট প্রস্তুতি

করছাড় পাবে সৌরবিদ্যুৎ খাত

করছাড় পাবে সৌরবিদ্যুৎ খাত
×

 জসিম উদ্দিন বাদল 

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৩১

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন পর্যায়ে আয়ের ওপর কর অব্যাহতি এবং ব্যবহারকারী হিসেবে কর রেয়াতও দেওয়া হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এসব সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ডিসি কেবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক-কর  রয়েছে। আগামী বাজেটে এসব কর ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর ছাড় দেওয়া হতে পারে, যা কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন, নেট মিটারিং অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ বিক্রির ক্ষেত্রে পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) বাধ্যতামূলক। 

সূত্র জানায়, নতুন বাজেটে বাণিজ্যিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের করছাড়ের সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ করা হলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর প্রথম পাঁচ বছর কোনো ধরনের কর আরোপ করা হবে না। তবে পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ ছাড় এবং তার পরের দুই বছর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। 

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন  কর্মকর্তা সমকালকে জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন সহজ হবে। 

প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে এলএনজি, কয়লা, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানির পেছনে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব পণ্যের আমদানিকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এ কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে দেখছেন। 

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও উচ্চ শুল্ক ও করহার এ খাতের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফা আল মাহমুদ বলেন, ইরান যুদ্ধ বুঝিয়ে দিয়েছে– সৌরবিদ্যুৎ কত প্রয়োজনীয়। দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করতে হলে সরকারকেই এ খাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্পায়ন ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তার জন্য এ খাতে সব ধরনের শুল্ক-কর অন্তত পাঁচ বছরের জন্য প্রত্যাহার করা দরকার। তিনি বলেন, কর সুবিধা দিলে শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বিস্তার পাবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমবে, যা পরিবেশের জন্য জরুরি।

এ খাতের বিনিয়োগে অনেক বাধা রয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা আল মাহমুদ বলেন, দেশে বৃহৎ পরিসরে সোলার প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও পেমেন্ট সিকিউরিটি, নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা এবং অর্থায়নে ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বৈদ্যুতিক যানবাহনে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে 

দেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) বাড়ানোর প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। ইভি আমদানিতে বর্তমানে ৯০ শতাংশ কর রয়েছে। এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন বাজেটে করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হতে পারে। একই সঙ্গে দেশে যাতে সহজে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন করা যায়, সে জন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি ভ্যাট ও আয়করে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন

×