এনইসি বৈঠকে অনুমোদন
আগামী অর্থবছরের এডিপি তিন লাখ কোটি টাকার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১২:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এই বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। নতুন এডিপিতে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এক হাজার ১২১টি। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে এনইসির বৈঠক হয়। বৈঠকে এনইসির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের অন্য মন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এডিপির মোট আকার তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ কোটি টাকা। এতে বিদেশি ঋণ ও অনুদান ছিল ৭২ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প দ্রুত শেষ করা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এবারের এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সরকারে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধার এবং উত্তরণ ও পুনর্গঠন কৌশল বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের এডিপি পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত কাঠামোর আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পাঁচটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক সামাজিক সংহতি জোরদার। রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার অংশে বিচার ও আইনগত সেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত সরকারের এডিপি হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আর্থিক মুনাফা ও কর্মসংস্থান মাথায় রেখে প্রকল্প গ্রহণ এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রকল্প পর্যালোচনা করে মানোত্তীর্ণ নয় এমন প্রকল্প বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে একটা সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো দুর্বলতা দেখা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে বড় আকারের এডিপি উচ্চাভিলাষ কিনা– এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকলে জাতি হিসেবে এগোনো যাবে না। বিনিয়োগ না হলে উন্নয়ন হবে না– এ কথা মাথায় রেখে এবারের এডিপি সাজানো হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যখন চাপকলে পানি পাওয়া যায় না, তখন ওপর থেকে পানি ঢালতে হয়। এক পর্যায়ে কল থেকে পানি আসে। একইভাবে বড় বিনিয়োগ ছাড়া ভঙ্গুর অর্থনীতিতে গতি ফেরানো সম্ভব নয়।
সর্বোচ্চ বরাদ্দের ৫ খাত
এডিপিতে বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে। এ খাতে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে যা ছিল ৪০ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, চলতি এডিপিতে যার পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। চতুর্থ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে গৃহায়ণ খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।
প্রকল্প এক হাজার ১২১টি
আগামী বছরের অনুমোদিত এডিপিতে এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। আগামী অর্থবছরে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বৈঠক
- এডিপি
- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ
