ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগে অন্তত ৫১% দেশীয় মালিকানা দরকার

বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগে অন্তত  ৫১% দেশীয় মালিকানা দরকার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিদেশি আধিপত্য বাড়ছে। এসব খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাদের সুযোগ কম দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তাই এসব সম্পদে বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা এবং বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তর থাকা দরকার।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। ‘কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসআরের নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নামে মূলত দেশীয় অর্থ ও ঋণের ব্যবহার হচ্ছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিদেশি অপারেটরের ১৭ কোটি ডলার বিনিয়োগের মধ্যে ১০ কোটি ডলার বা ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশই এসেছে দেশীয় ও আঞ্চলিক ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ থেকে। অন্যদিকে দেশীয় উদ্যোক্তারা সমান সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম। যেমন– চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিডিডিএল আগের অপারেটরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীলতা দেখিয়েছে। এনসিটি পরিচালনায় এমজিএইচ গ্রুপ বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ে কনটেইনারপ্রতি বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ তখনই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যখন প্রযুক্তি হস্তান্তর হয় এবং মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে থাকে। শুধু মুনাফা বিদেশে চলে গেলে তাতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি লাভ হয় না। তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা সহজ করা ও ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। 
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি আর কোন প্রতিষ্ঠানকে দেশি বলব, সেটা অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। যেমন– এস আলমকে দেশি না বিদেশি বলব? সামিট গ্রুপ কি দেশি না বিদেশি? কারণ যখন দরকার হয়, সুযোগ-সুবিধা নিতে হয়, তখন তারা দেশি হয়ে যায়। আবার যখন পরিবেশ তাদের স্বার্থের প্রতিকূলে চলে যায়, তখন বিদেশি হয়ে যায়। এ জন্য আরও স্পষ্ট আইন দরকার।’

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সব সময় বলা হয়, আমাদের কোনো বিকল্প নেই। অথচ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা বাংলাদেশেরও রয়েছে। একতরফাভাবে স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে পারস্পরিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, ক্যাব সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান, ঢাকা স্ট্রিমের উপদেষ্টা সম্পাদক হাসান মামুন, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের কো-অর্ডিনেটর সবুজ এইচ চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×