আইসিএবির প্রতিক্রিয়া
খুচরা ব্যবসায় অগ্রিম কর মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে
গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাজেটের ওপর আইসিএবি আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি এন এ কে মবিন এবং অন্য নেতারা - ফটাে রিলিজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুচরা ব্যবসায়ীদের হাজারে দুই টাকা হারে অগ্রিম কর ধার্য করায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। আবার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতে ঋণের সহজলভ্যতা কমিয়ে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পেশাদার নিরীক্ষকদের শীর্ষ সংগঠন আইসিএবি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। লিখিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি এন কে এ মবিন।
খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হাজারে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা প্রতি হাজারে দুই টাকা কর আরোপের বিষয়ে আইসিএবি সভাপতি বলেন, যদিও এ হার দেখতে ছোট, কিন্তু এর আওতা দেশব্যাপী বিশাল হওয়ার কারণে এটি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার যদি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নেয়, তবে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতার বড় অংশই সরকারি খাতে চলে যাবে। ফলে বেসরকারি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেতে বাধার মুখে পড়বেন, যাকে অর্থনীতিবিদরা ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্থমন্ত্রী ঘোষিত বাজেট ‘সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী’ বলে অভিহিত করেন আইসিএবি সভাপতি এনকেএ মবিন। তিনি তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জকে দেশের সমৃদ্ধির পথে সহায়ক বলে মনে করেন।
বাজেটে আইসিএবির বেশ কিছু সুপারিশ প্রতিফলিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ন্যূনতম কর বিধানের বিলোপ, আগামী ৫ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ এবং নিবন্ধিত স্টার্টআপগুলোর জন্য শূন্য টার্নওভার করের সুবিধা সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
আইসিএবির সভাপতি মনে করেন, ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি করদাতাদের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত ডিজিটাল করব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এডিপি ও রাজস্ব ব্যয়সহ সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অডিট ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
- বিষয় :
- আইসিএবি
